পর্যাপ্ত বিশ্রাম কতটা জরুরি?

প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৬:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০
শাকিল হাসান। সিঙ্গাপুর থেকে। কিছুদিন আগেই  বলেছিলাম একমাস সূর্যের আলো না দেখলে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ আত্মহত্যা করবে। কথাগুলো কখনোই আমার ছিলনা।কোনো কারণে যদি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় সেটা স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। আমাদের শরীরের  সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর মধ্যে মস্তিষ্ক অন্যতম একটি অঙ্গ। আমরা জানি মানুষের প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব ক্লিনিং সার্ভিস রয়েছে যেটার মাধ্যমে সে তার রোগজীবাণু কিংবা ক্ষতিকর পদার্থগুলো বের করে দিতে পারে।তবে এই ধরনের নিজস্ব ‘ক্লিনিং সার্ভিস’ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছায় না৷ অথচ মানুষের এই অঙ্গটিতেই মেটাবলিজমের চাপ পড়ে সবচেয়ে বেশি৷আর মস্তিষ্ক প্রতি মিনিটে অসংখ্য প্রোটিন বের করে দেয়, যা স্নায়ুকোষের ক্ষতি করতে পারে৷ কার্টিসল নামক হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ মানুষকে দুশ্চিন্তা এবং হতাশায় নিমজ্জিত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
আমাদের মস্তিষ্ক এইসব আবর্জনা নিয়ে কী করে, সেটাই বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক আন্তর্জাতিক গবেষক টিম৷ তাঁদের গবেষণার ফলাফল সাইন্স মাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি৷ এতে জানা যায় আমাদের মস্তিষ্কের আরেক ধরনের সাফাই পরিষেবা রয়েছে৷একে গ্লিম্ফোটিক সিস্টেম বলা হয়৷ এক্ষেত্রে গ্লিয়াল সেলের এক মুখ্য ভূমিকা রয়েছে৷ এটি ব্রেইন ওয়াটার বা তরল পদার্থ ও বর্জ্য চাপ প্রয়োগ করে থিংকিং অর্গান বা চিন্তার অঙ্গ থেকে বের করে দেয়৷যেটা আমাদেরকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
অবশ্য প্রক্রিয়াটা খুব দ্রুতগতিতে ঘটে না৷ গবেষকদের ধারণা, সম্পূর্ণভাবে মগজ ধোলাই হতে প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় আট ঘণ্টার মতো সময় লাগে৷ সাধারণত প্রক্রিয়াটি বিছানায় বিশ্রাম নেয়ার সময় ঘটে থাকে৷ কেননা যখন আমরা ঘুমাই তখন স্নায়ুকোষগুলির একটা থেকে আরেকটা ব্যবধান বেড়ে যায়৷ স্নায়ুর জলীয় পদার্থ বিনা বাঁধায় বয়ে যেতে পারে এবং বর্জ্য বের করে দিতে পারে৷ ঘুম না হলে বা খুব কম ঘুম হলে মস্তিষ্কের ‘পরিচ্ছন্ন পরিষেবা’ তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না৷ এবং ক্ষতিকারক হরমোনগুলো ব্যাপকভাবে নিঃসরিত হতে থাকে।
করোনা মহামারীর এই সময়ে যখন আমরা আমাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারছি না তখন বিশ্রামের সময় টাও এদিকসেদিক হয়ে যাচ্ছে। অনেকেরই ঠিকঠাক ঘুম হচ্ছে না।পারিপার্শ্বিক দুশ্চিন্তা এবং হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইভাবে বেশি দিন চললে আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে৷ এর ফলে আলৎসহাইমার বা পার্কিনসনের মতো অসুখ বিসুখও হতে পারে৷ হতাশা বেড়ে আত্মহত্যার মতো  ঘটনাও ঘটতে পারে।এজন্য গবেষকরা ঠিক সময় বিছানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন৷ এতে করে আমাদের মস্তিষ্ক ‘স্নানে’-র জন্য যথেষ্ট সময় পায়৷ এই প্রক্রিয়াটা প্রাকৃতিক ভাবে আট ঘণ্টা যাবত চলে৷  এইভাবেই মস্তিষ্কের দূষিত পানি ফিল্টার ও রিসাইকেল হয়৷
নিজের যত্ন নিন, নিজেকে ভালবাসতে শিখুন। সময়ের কাজ সময়ে করতে নিজেকে অভ্যস্ত করুন।সৃষ্টিকর্তার ইবাদতে নিজেকে নিমগ্ন রাখুন। আজকাল অনেক জায়গা থেকে আত্মহত্যার খবর আসছে। নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখা এই মুহূর্তে খুব প্রয়োজন।
যখনই আত্মহত্যার মতো জঘন্য চিন্তা মাথায় আসে তখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোর কথা মনে করুন। আপনার লাশ সামনে নিয়ে বসা তাদের মুখগুলো চিন্তা করলে আশা করি এই ধরনের ঘৃণিত কাজে কেউ নিজেকে লিপ্ত করবেন না।