টেমস বয়ে চলে ধীরে, স্রোতের ধারায় দেখি ফিরে আমার নদীর ছায়া

প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০ | আপডেট: ১২:০৪:অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

মাওলানা সিদ্দীকুর রহমান চৌধুরী।

 

লকডাউনের বন্দীদশা থেকে বের হয়ে লন্ডন শহরের সবচেয়ে পছন্দের জায়গার দিকে ছুটে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় আছে কি বলুন! টেমস নদীর তীর, ‘টেমসপাথ’— এই শহরে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্থানগুলোর একটি। ব্যস্ত জীবন এবং ব্যস্ত শহরে সময় বের করে টেমসের তীর ধরে আমি মাইলের পর মাইল হাঁটি । মজার বিষয় হলো, বিলেতের এই নদীর তীর ধরে যখন হাঁটি তখন আমার দাদীকে মনে পড়ে, আর মনে পড়ে আমার ছোটবেলার নদীকে। আপনারা ভাবছেন, ছোটবেলার নদীকে মনে পড়ার সঙ্গত কারণ থাকতেই পারে, কিন্তু দাদীকে মনে পড়ার কি-ই বা কারণ রয়েছে! আছে বৈ কি।

 

আমার ঘর থেকে বের হয়ে সবচেয়ে কাছাকাছি নদীতীর হলো, টাওয়ার ব্রীজ অথবা ব্রিটেনের রাজপরিবারের পুরনো প্রাসাদ ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’, যেখানে দুনিয়া বিখ্যাত বহুমূল্যের হিরা ‘কুহিনুর’ রাখা আছে—এর লাগোয়া তীরটুকু। করোনা সংকট শুরু হওয়ার আগে আমার নিয়মিত রুটিন ছিল বাচ্চাদেরকে স্কুলে দিয়ে এসে সকালের হাঁটাহাঁটির কাজটুকু সেরে ফেলা। সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন টেমসতীরে হাঁটতে যাওয়ার ব্যত্যয় ঘটেছে কমই। ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর সদর দরজার সামন থেকে উত্তর তীর ধরে হাঁটতে থাকা। সোজা ওয়েস্ট মিনিস্টার ব্রীজ অবধি, এরপর ব্রীজ পেরিয়ে দক্ষিণ তীর ধরে সোজা টাওয়ার ব্রীজে ফিরে আসা। সময়ের তাড়া থাকলে লন্ডন ব্রীজ পর্যন্ত হেঁটেই ক্ষান্ত হতাম। ব্রীজ থেকে টেমসের ধীর-মন্তর স্রোতের দিকে চেয়ে থেকে আমার ছোটবেলার নদীকে মনে পড়ে, বুকি নদী—আষাঢ়-শ্রাবণে কুলকুল করে বয়ে যাওয়া নদী। চৈত্র-বৈশাখে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া— ‘হাঁটুজল থাকা’ নদী। “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে/বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে।…”—কবিতার লাইন গুলো যখন ছোটকালে আওড়াতাম, মনে হতো কবি আমার নদী নিয়েই এটি লিখেছেন। ছোটকালে নদী, নৌকা, পাল, গ্রাম বা ঐরকমের কিছু নিয়ে লেখা কবিতা বা গান ভালো লাগত। ‘মেঘনা পাড়ের ছেলে আমি মেঘনা নদীর নেয়ে…’ অথবা ‘মাঝি বাইয়া যাও রে…’—এর সুর এবং কল্পচিত্র আমাকে আলোড়িত করত। আমি আমার বাংলা বই-এ অঙ্কিত ‘মেঘনা পাড়ের ছেলে’ এবং তার ‘তালের নৌকা’র ছবিটি দেখে আনন্দ পেতাম। বর্ষাকালে আমাদের বাড়ীর চারদিকের পুকুর, নদী, খাল ও অদূরের হাওড় যখন পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যেত, তখন ভেলায় অথবা নৌকায় চড়ে সাতরাজ্যের খুশি হতাম—আর  তখনও অনেক সময় আমার মাথায় ‘মেঘনা পাড়ের ছেলে’ এবং তার ‘তালের নৌকার’ ছবিটি ঘুরপাক খেত।

আমি প্রথম পড়তে শুরু করেছিলাম আমার দাদী এবং আমার আম্মার কাছে। আরবী হরফ, বাংলা বর্ণমালা, বাংলা সংখ্যা এবং নামতাও প্রথম আমার দাদীর কাছে শিখতে শুরু করি। আমার প্রথম বাংলা বর্ণমালা শেখার বইটির নাম ছিল—‘আগে পড়ি’। এটির লেখক কবি বন্দে আলি মিয়া। আমার মরহুম নানা বইটি আমার জন্য কিনে এনেছিলেন। প্রতিটি বাংলা বর্ণের সাথে লিখিত ছড়ার লাইনগুলো আম্মা আমাকে যত্নের সাথে শেখাতেন। ‘অজু করি সকাল বেলা/আতা নিয়ে করছে খেলা/ইঁদুরগুলো পেয়েছে ভয়/ঈগল ওড়ে আকাশময়/উট চলেছে কাবার পথে/ ঊষা আসে সোনার রথে।’ বর্ণ ও লাইনগুলোর সাথে অঙ্কিত কিছু কিছু ছবি এখনও আমি মনে করতে পারি। আমি বইটি নিয়ে এত খুশি ছিলাম যে, কোন মেহমান-আত্নীয় কেউ বাড়ীতে এলে আমি এটি নিয়ে বসে পড়তাম এবং তাঁদেরকে শুনানোর জন্য শব্দ করে পড়তে শুরু করতাম। আমার পড়া শুরু হত এ ভাবে—‘আগে পড়ি, বন্দে আলী মিয়া, অ-অজু করি সকাল বেলা/আ-আতা নিয়ে করছে খেলা/ই-ইঁদুরগুলো পেয়েছে ভয়/ঈ-ঈগল ওড়ে আকাশময়/…।

 

আমার শিশু বয়সের কিছু তুচ্ছ এবং ছোটখাট কথা খুবই স্পষ্টভাবে মনে আছে। যেমন তার মধ্যে একটি, দাদী আমাকে সংখ্যা শিখিয়ে না দেখে লেখার পরিক্ষা নিচ্ছেন। আমি ১,২ লেখার পর ৩ লিখতে পারছিনা, আমাকে তিনি বার বার বলে দিচ্ছেন, ‘তিন ত’র লেখান’—আমি তো ভেবে হয়রান, ‘তিন আমার লেখান অইব কিলা।’ আসলে আমাকে দাদী বুঝাচ্ছিলেন,৩ বাংলা ‘ত’ বর্ণের মতো। আমি বুঝছিলাম ‘ত’র লেখান’ বলতে তিনি বলছেন— ‘আমার মতো।’ এই অতি সামান্য বিষয়টিও শিশু মনে দাগ কেটে যে রয়ে গিয়েছিল, এখনও মিটে যায়নি।

 

ছোট বেলা আমার দাদীর খুব ঘনিষ্ট ছিলাম আমি, কিন্তু তাঁকে ভয়ও করতাম। আমার কেন জানি মনে হতো, ভুল করলে তিনি আমাকে পিটুনি দিতে পারেন। আমার মনে হতো, আমার আম্মাও দাদীকে ভয় করেন। আসলে তাঁর মেজাজে একধরণের ‘নবাবয়ানা’ ভাব ছিল। যা তাঁর ব্যক্তিত্বের অতি সাধারণ অভিব্যক্তি ছিল মাত্র। খুবই পরিপাটি ছিল তাঁর জীবনযাপন। প্রতি দিনের কুরআন তেলাওয়াত, দুরুদ শরীফের ওয়াযিফা তাঁর কখনো বাদ পড়েনি।  আমরা ভাই-বোনরা দাদীর ‘পড়াপানি’ খেয়ে খেয়ে বড় হয়েছি। হ্যাঁ, আমরা তাঁর ‘পড়াপানি’ খেতামই। আমরা ‘সিলটিরা’ ভাতও খাই, পানিও খাই, এমনকি সুপারী বা গোয়া যদিও চিবিয়ে থাকি—এটাও খাই। দাদী তেলাওত, দোয়া ইত্যাদি শেষ করে তাঁর সামনে রাখা পানির গ্লাসে ফুঁক দিয়ে ঢেকে রাখতেন। আমরা কোন ব্যতিক্রম ছাড়া নিয়মিত তা পান করতাম। অসুস্থতায়, সুস্থতায়—সব সময়। আমরা অন্তরে যে ইয়াকীন ও বিশ্বাসের অনুভুতি লালন করতাম তার মূল্যমান নির্ণয় করা সব সময়ই সাধ্যের বাইরে রয়ে যাবে। দাদীর ইন্তেকালের পর আমাদের ঘর থেকে, আশ-পাশ থেকে এক অদেখা আলো বা রোশনীর তিরোধান হয়েছিল যা আমার মনের নিকুঞ্জে নিষ্প্রভ এক বার্তার উপস্থিতি থেকে টের পেয়েছিলাম। আমার মাদ্রাসা জীবনের শুরুর দিকে তাঁর ইন্তেকাল হয়। আমি কোন খবর না জেনে, না শুনে এমনিতেই বাড়ীতে আসি।  তিনি দু’দিন ধরে অসুস্থ, ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না, কিছুটা জ্বর কাশ এই যা। তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলো। সবাই তাঁর শুশ্রুষা করছেন। আমি তাঁর কাছে বসে কুরআন তেলাওত করছি, সুরা ইয়াসিন পড়ছি বারবার। আমার তেলাওতের মধ্যেই তিনি ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বললেন, এর পর চিরদিনের জন্য নিরব হয়ে গেলেন। আমার কাছে মনে হয়েছিল, আল্লাহর এক প্রিয় বাঁদী যিনি জীবদ্দশায়ই তাঁর মালিকের এমনই কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন যে, মৃত্যুর মূহুর্তে যেন তিনি দয়াময়ের সাক্ষাত প্রত্যাশায় ঐকান্তিক আবেশময় পরিতৃপ্তির শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

“নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল/তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল/গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান/কাষ্ট দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্য দান।” (সংকেপিত) দাদী আমাদেরকে তাঁর এ ধরনের কবিতা শুনিয়েছেন বহু বার অর্থাৎ আমরাই জেদ ধরতাম শুনতে। শুনে শুনে আমরা ভাই বোনেরা মুখস্ত করে নিয়েছিলাম। দাদী এগুলো স্কুলে শিখেছিলেন। কবিতা, উপদেশমূলক গল্প এবং কিছু রচনা বা কথামালা তিনি আমাদেরকে শুনাতেন। এর মধ্যে একটি মনে পড়ে ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জ সম্পর্কে। তিনি পুরাটা রচনাই আমাদেরকে শুনিয়ে দিতেন। এক-দেড় মিনিটের কথামালা, আমি এবং আমার ছোট দুই বোন মজা করে শুনতাম। শুরু করতেন এভাবে, “উপরে যাঁহার ছবি দেখিতেছ, তিনি হলেন আমাদের মহামতি রাজা পঞ্চম জর্জ….”।

 

টেমসের তীরে হাঁটতে হাঁটতে রাজা পঞ্চম জর্জের নাম সম্বলিত স্মৃতিফলকটি যখন অতিক্রম করি তখন দাদীর কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে তাঁর কবিতার কথাও—“ নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল/ তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল” এবং রাজা পঞ্চম জর্জের উপর রচনাটি যা তিনি  আবৃত্তির মত করে বলতেন। আমি রাজা পঞ্চম জর্জের স্মৃতি ফলকের সামনে দাঁড়াই। কোন কারণ ছাড়াই দাঁড়াই। যতবার অতিক্রম করি ততবার। স্মৃতি ফলকের লেখাটুকু পড়তে শুরু করি এবং রাজার নামে গিয়ে শেষ করি—  “IN COMMEMORATION OF THE TWENTY-FIFTH ANNIVERSARY OF THE ACCESSION OF HIS MAJESTY KING GEORGE V…”.

 

আমি দাদীর কাছে গল্প শোনার ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যাই। তিনি ঘোড়ায় চড়ে স্কুলে যেতেন, আমরা ভাই-বোনরা শুনে তাজ্জব হতাম। জিজ্ঞেস করতাম, ঘোড়া থেকে পড়ে যাবার ভয় কি তাঁর ছিলনা! আমাদেরকে বুঝিয়ে বলতেন, তিনি ও তাঁর ছোট বোন তাঁদের বাবার ঘোড়ার পিঠে বসতেন, একজন লাগাম ধরে ঘোড়া আস্তে করে হাঁটিয়ে নিতেন। আমার দাদীর ছোটবেলায় ব্রিটেনের রাজা ছিলেন পঞ্চম জর্জ। ভারত উপমহাদেশসহ বিশ্বে বৃটেনের আরও যে সব কলোনী বা অধিরাজ্য ছিল, রাজা বা রাণী সেগুলোতেও বন্দিত হতেন। বুঝা যায়, সে সময়কার শিশুপাঠ্যও রাজার স্তুতি-প্রশস্তি থেকে খালি ছিল না।

 

লন্ডন ব্রিজে দাঁড়িয়ে টেমসের ধীর-মন্থর স্রোত বয়ে যেতে দেখি। এই শহরে বসবাস করেন এমন খুব কম মানুষই আছেন, যে কি না টাওয়ার ব্রিজ অথবা লন্ডন ব্রিজে দাঁড়িয়ে টেমস বয়ে যেতে দেখেনি। স্রোতের এ বয়ে যাওয়া মনকে চঞ্চল করে, এর গতিময়তা চিন্তায় গতি আনে। প্রতিনিয়ত স্রোতের চলতে থাকার মাঝে, ছুটতে থাকা রাশি রাশি জলের হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতায় এক অতি বাস্তব পরিণতির অমিশ্রিত উপস্থাপন দেখতে পাই। মুহূর্তের ‘বর্তমান’ কীভাবে ‘অতীত’ হয়ে দূর-দূরান্তের কোনও ‘এক কিছুতে’ পরিণত হতে থাকে। এমনই ভাবে জীবন থেমে নেই, যাপনও থেমে নেই,  থেমে নেই মৃত্যুও। মৃত্যুর বিভীষিকার মাঝে যাপিত জীবনের স্বাদ নিচ্ছে এখন বিশ্ববাসী। এ পর্যন্ত মহামারী কোভিড-১৯ কেড়ে নিয়েছে পৃথিবীর ৪ লক্ষ ২৩ হাজার মানুষের প্রাণ। আমার ভাবনায়—নদীর গতিময়তা যেন জীবন, তার ধারা-বহতা যাপন, আর স্রোতের হারিয়ে যাওয়াকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করা যায়। সব কিছুর মূলে নদীর উৎসমুখ, ওখানটা কেউ থামিয়ে দিলে সব কিছু থেমে যায়। খতম হয়ে যায় সব খেলার। যিনি অনন্ত মহিমার অধিকারী— মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা’লা, তাঁরই ইচ্ছা অনিচ্ছার অধিন এমনই সবকিছু। আমার আপনার জীবন নদীর উৎসমুখ তাঁরই হাতে, তিনি সম্মত আছেন, তাই নদীর স্রোতের মতোই বহমান এ জীবন, তাঁর ইচ্ছায় একদিন থেমেও যাবে—অন্য আরেক জীবনের শুরু হবে তখন।

 

আমার ছোটবেলার নদীর ছোটে চলা, স্রোতের হারিয়ে যাবার খেলা আমি বোকার মত দাঁড়িয়ে দেখতাম। বাংলাদেশের ছোট্ট এক নদীর স্রোতের দিকে এমনি এমনি চেয়ে থাকা বুদ্ধিহীনতার লক্ষণ ছাড়া আর কী হতে পারে! পাহাড় বা হাওড়ের দলাপাকানো বন বিশেষ, কখনো কচুরীপানার ঝাঁক অথবা মৃত জীব-জানোয়ারের নিথর দেহ ভেসে যাচ্ছে দেখা ছাড়া আর কি-ই বা চোখে পড়তে পারে। তবুও বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিতে দিতে অথবা অপরিপাটি এবড়ো-থেবড়ো তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে থাকা আমার ছোট্ট নদীর স্রোতের বহতা আমাকে আকৃষ্ট করতো; এখন যেমনি করে টেমসের ধীর-মন্থর স্বচ্ছ ধারার বয়ে চলা।

 

আমার নদীটি এখন কেমন আছে, কেউ যদি আমাকে বলতো! বেতবনের কাছ থেকে দূরের নীলাভ পাহাড় সমেত বুকি নদীর আঁকাবাঁকা চলে আসা ছবিটি আমি টেমস নদীতে দুনিয়ার সবচেয়ে পরিচিত ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে যেন দেখতে পাই। আমার দুপাশে করচ বৃক্ষের সারির বদলে অতি মনোরম স্থাপত্যশৈলীর অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইমারতগুলোর সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে সবুজ ওকগাছের পরিপাটি শামিয়ানা আর ভেসে থাকা সুভ্র-সাদা মেঘের চাঁদোয়া ঘেরা নীল আকাশের বিশালতা আমাকে বেশী আকৃষ্ট করে।

 

 

লেখক: চেয়ারম্যান, ইসলামিক রিসার্স এন্ড দা’ওয়াহ কাউন্সিল ইউকে