পিপলএনটেকের ২ কোটি টাকার বিশেষ ‘কোভিড রিকোভারি বৃত্তি’ ঘোষণা

প্রকাশিত: ১১:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

হাসানুজ্জামান সাকী।আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক বাংলাদেশে আইটি শিক্ষার্থীদের জন্য ২ কোটি টাকার বিশেষ কোভিড রিকোভারি বৃত্তি ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে পরিচালিত এনআরবি কানেক্ট টিভির এক আলোচনায় এই বৃত্তির ঘোষণা দেন।

এই বৃত্তির মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশে পিপলএনটেকের গ্রীনরোডে অবস্থিত ক্যাম্পাসের মাধ্যমে অন্তত দুই হাজার শিক্ষার্থীর প্রযুক্তি দক্ষতা বা আইটি স্কিল ডেভেলপ করা। আর প্রশিক্ষণ শেষে যেন তারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে সেই বিশেষ সহায়তাও প্রদান করা, যার মাধ্যমে মাসে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে অনেক শিক্ষার্থীর।

শতভাগ স্কলারশিপের সুবর্ণ সুযোগটি পেতে  প্রদত্ত এই ঠিকানায় রেজিস্ট্রেশন করার অনুরোধ করা হয়েছে

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এক মিলিয়ন ডলার সমমানের স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। যার অধীনে ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্কসহ পিপলএনটেকের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে ৩৮১ জন শিক্ষার্থী প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এছাড়াও ২০১৯ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেনের নামে তিন লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থের বৃত্তি প্রদান করে পিপলএনটেক। ওইসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণ শেষ করে এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে চাকুরী করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সমর্থ হয়েছেন।

পিপলএনটেক যুক্তরাষ্ট্রে বিগত ১৫ বছরে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীকে আইটি চাকরি পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছে, যাদের সবাই আমেরিকার নাগরিক অথবা গ্রিনকার্ডধারী। বার্ষিক ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ও করছেন পিপলএনটেকের যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ঘোষিত এককালীন বৃত্তির বাইরেও দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি প্রদান করে থাকে পিপলএনটেক। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ও অনুরূপ বৃত্তি প্রদানের জন্য অনবরত অনুরোধ লিখতে থাকায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ২ কোটি টাকার বিশেষ বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ।

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস আমাদের সবার জীবনকেই বিশেষভাবে নাড়া দিচ্ছে। চাকরি বাজারে এর প্রভাব হতে পারে দীর্ঘ মেয়াদী। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতায় দেখছি, অনেক প্রতিষ্ঠান ফিজিক্যাল যোগাযোগ কমিয়ে দিয়ে অনেক কাজকর্ম রিমোর্ট ওয়ার্কে রূপান্তরিত করছে। বাংলাদেশে করোনার কারণে অনেক তরুণ-তরুণী এরই মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন।

ইঞ্জিনিয়ার হানিপ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর যে হাজার হাজার নতুন ডিগ্রিধারী বের হচ্ছেন তাদের হতাশাও বাড়ছে, কিন্তু ভবিষ্যতে সেটা আরো বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছি। কেননা, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তরুণদের চাকুরীর নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। সে কারণে, আমরা মনে করছি, বাড়তি প্রযুক্তি দক্ষতা যদি আমাদের ছেলে মেয়েদের থাকে তাহলে চাকরি বাজারে তার পয়েন্ট বা পালক যুক্ত করবে। সে প্রতিযোগীদের মধ্যে বিশেষভাবে এগিয়ে থাকতে পারে। সেই এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আপাতত আমরা ২০০০ শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ এই স্কলারশিপ ঘোষণা করেছি।’

মেধাবী শিক্ষার্থীরা এর পরিপূর্ণ সুযোগ নিলেই পিপলএনটেকের উদ্যোগ পরিপূর্ণতা পাবে বলে মনে করেন আবুবকর হানিপ।

পিপলএনটেকের মূল ক্যাম্পাসটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার টাইসন্স কর্নারে অবস্থিত। নিউইয়র্ক ক্যাম্পাস কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে অবস্থিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে প্রবাসী অভিবাসীদের প্রযুক্তি প্রশিক্ষণদানে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য পিপলএনটেকের প্রচেষ্টাকে ‘বৈপ্লবিক উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আবুবকর হানিপকে একজন ‘ম্যাজিকম্যান’ উপাধি দিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনলাইনে শতভাগ স্কলারশিপের মাধ্যমে মোট ৯টি যুগোপযোগী আইটি বিষয়ের ওপর স্কিল ডেভেলপমেন্টের সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্কলারশিপের কোর্সগুলো হলো: CompTIA A+, Microsoft Office, Microsoft Excel, Web Design, Database MySQL, Adobe Photoshop, Video Editing, Programming in C#, Local SEO।