মৃত চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা, ষষ্ঠশ্রেণী পাশ- ‘নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ’ সেজে চিকিৎসা দিতেন ক্লিনিক মালিক

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০ | আপডেট: ১২:১০:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেই বিদ্যা শেখায় ইতি টানেন। এর পর চিকিৎসকদের পাশে থাকার সুবাদে স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে প্রাথমিক কিছু ধারণা অর্জন করেন। আর এটাকে পুঁজি করেই এক পর্যায়ে খুলে বসেন হাসপাতাল ও ডায়গোনস্টিক সেন্টার। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া মৃত বিশেষজ্ঞক চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে জড়িয়ে পড়েন ভয়ঙ্কর এক প্রতারণায়। চিকিৎসার নামে মাস ছয়েক এ রকম কেলেঙ্কারি চলার পর বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে ধরা পড়েন খলিকুর রহমান নামের ধুরন্ধর ওই ব্যক্তি। এ সময় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি তার পরিচালিত হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে মারা যান রংপুরের বাবা-মা জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রওশন আলী। এর পর থেকেই নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে রোগী দেখা শুরু করেন হাসপাতালের মালিক খলিলুর রহমান।

বিষয়টি জানতে পেরে নগরীর ধাপ এলাকার অনুমোদনহীন ওই হাসপাতাল ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ওই হাসপাতাল মালিককে গ্রেপ্তার করে ডিবি। একই সঙ্গে তার মালিকাধীন হাসপাতাল ও ডায়গোনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এ খবর নিশ্চিত করে রংপুর মহানগরী ডিবি পুলিশের কমিশনার মারুফ আহাম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শনিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত বাবা-মা জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে গিয়ে দেখা যায় যে হাসপাতালটির কোনো অনুমোদন নেই।’

পুলিশ আরও জানায়, ওই হাসপাতালে রোগী দেখতেন নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রওশন আলী। ছয় মাস আগে মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর তাঁর নাম ও প্যাড ব্যবহার করে রাতারাতি চিকিৎসক বনে যান হাসপাতালের মালিক খলিলুর রহমান। এরপর থেকেই ডা. রওশন আলী পরিচয়ে রোগী দেখে আসছিলেন তিনি।

ডিবি পুলিশ কমিশনার মারুফ আহমেদ বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার খলিলুর রহমান। তার মালিকানাধীন হাসপাতালের এক চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তিনি নিজেই চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ওই হাসপাতাল থেকে পরিচালিত ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নামফলক দেওয়া আছে। তবে অভিযান চলাকালে এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে প্যাথলজি টেস্টের রিপোর্ট প্রদান করতেন সেখানকার কর্মচারীরা।

এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান বলেন, অনুমোদন না থাকা, রোগীদের সাথে টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ওই হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে হাসপাতালের মালিক খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।