রাজাপুরে বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া ভূ-সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালিত

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০ | আপডেট: ১০:৪৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

রাজাপুর (ঝালকাঠী) প্রতিনিধিাঃ ঝালকাঠির রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বেহাত হওয়া ভূ-সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের গেটের সম্মুখে এ অবস্থান কর্মসূচী চলে। বিদ্যালয়ে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের শত শত মানুষ মাথায় লাল কাপড় বেঁধে অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নেয়। এ সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষমতার দাপটে লিজ কিংবা ভাড়া দেয়ার নামে ক্রমাগত আত্মসাৎ, অবৈধভাবে বেদখল ও লুটপাটের কবলে পড়ে দখলচ্যুত হয়ে যাওয়া ভূ-সম্পত্তির লিজ বাতিলসহ উদ্ধারের যথাযথ ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহনের দাবি জানান বক্তাগণ।

এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড.খাইরুল আলম সরফরাজ, মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন খান মিলু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সঞ্জিব কুমার বিশ্বাস, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ্ আলম নান্নু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বাচ্চু, সাবেক ছাত্রনেতা নাসির উদ্দিন তালুকদার জুয়েল ও স্কুল স্টুডেন্ট কেবিনেটের নির্বাচিত মোঃ মুবিন ও মোঃ হাসিব প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আমরা সবাই আন্দোলন করছি, বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া সম্পত্তি বিদ্যালয়কে উদ্ধার করে দিতে। বিদ্যালয়ের এক ইঞ্চি জমিও বেদখলে থাকা চলবে না। প্রয়োজনে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে আমরা প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যাবো। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে যদি অবিলম্বে তৎপর না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ জাহিদ হোসেন খান, সাবেক প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ লাল সাহা, মুক্তিযোদ্ধা জয়রাম তেওয়ারি, মুক্তিযোদ্ধা প্রান বল্লভ সাহা যুবদল উপজেলা সভাপতি জাকারিয়া সুমন, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি দুলাল তেওয়ারি, সহ প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্ররা। এর আগেও মানববন্ধন, মৌন মিছিল, গণস্বাক্ষর কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি গত ৪৭ দিন যাবৎ পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।

জানা গেছে, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্নভাবে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় কখনো মার্কেটের নামে, কখনো ব্যাংকের নামে কিংবা অন্য কোনোভাবে জমি বেদখল হয়েছে। নামমাত্র টাকার ৯৯ বছরের লিজে বিদ্যালয়ের বিশাল সম্পত্তিজুড়ে মার্কেট উঠিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন অনেকে। কেউবা প্রভাব ও কৌশল খাটিয়ে বিদ্যালয়ের সম্পত্তির ওপর গড়ে তুলছেন বহুতল ভবন, কেউ আবার নিজ জিম্মায় রেখেছেন বিদ্যালয়ের ভবন, আবার কেউ লিজের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছেন অন্যের কাছে।

আন্দোলনকারীরা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় ৯ একর ভূ-সম্পত্তি থাকা সত্যেও মাত্র ৬৭ শতাংশ জমিতে ৫টি বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের জমি কাগজে-কলমে আছে, দখলে নেই! কোলম মতি শিক্ষার্থীরা আজ বঞ্চিত লেখা পড়ার সুন্দর পরিবেশ হতে। বিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সংকুচিত করে একটি কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সাহস্রাধীক শিক্ষার্থীদের পিটি-প্যারেড করার জায়গাটুকুও নেই। তাই গত দের মাস ধরে বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া বেশকিছু সম্পত্তি ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি জমি ও এশটি ভবন নিয়ে মামলা চলছে। গত দের মাসে অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি ভবন ভেঙ্গেফেলা হয়েছে।’
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সম্পত্তি লিজ দেওয়ার কোন বিধান নেই। বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে লিজ দেওয়া সম্পত্তিগুলো আইনি প্রকৃয়ার মাধ্যামে আমরা উদ্ধার করবো। বিদ্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি উদ্ধার আন্দোলনের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহমত পোষণ করছি।’