ইউরোপে করোনাভাইরাসের “দ্বিতীয় ঢেউ” কি এসে গেছে? ।। বিবিসি

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

বিবিসি সংবাদ।ইউরোপের অনেকগুলো দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করায় প্রশ্ন উঠছে: “দ্বিতীয় ঢেউয়ের“ যে আশংকা করা হচ্ছিল – তা সত্যি শুরু হয়ে গেছে কিনা।

লকডাউন শিথিল করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, লাক্সেমবার্গ, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের মত অনেকগুলো দেশে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।

ফলে আবার নতুন করে এসব দেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাজ্য স্পেন থেকে ছুটি কাটিয়ে ফেরা লোকদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের বিধান করেছে।

ইংল্যান্ডে কেউ কোভিড পজিটিভ হলে বা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ৭ দিনের পরিবর্তে ১০ দিনের আইসোলেশনে থাকতে হবে বলে নিয়ম করা হয়েছে।

ইউরোপের সব দেশই চাইছে যে কোন উপায়ে দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে।

তবে অধ্যাপক পল হান্টার নামে একজন বিশেষজ্ঞ বিবিসিকে বলছেন, এটাকে দ্বিতীয় ঢেউ নয়, বরং পুনরুত্থান বলা যায়। আসলে করোনাভাইরাস বিস্তার থেমে যায়নি, লকডাউনের ফলে স্তিমিত হয়েছিল। লকডাউন শিথিল হবার ফলে তা আবার বেড়ে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস কি শীতের সময় বেশি ছড়াবে?

এর উত্তর এখনও পাওয়া যায় নি। তবে বিজ্ঞানীরা বলেন, এমন হবার সম্ভাবনা আছে।

তবে এটা বলা হচ্ছে অন্য ভাইরাস সম্পর্কে আমরা যা জানি তার ওপর ভিত্তি করে।

করোনাভাইরাস আছে মোট চার রকমের -যা সাধারণ সর্দিজ্বরের লক্ষণ সৃষ্টি করে। প্রতিটিই সহজে ছড়ায় শীতের সময় । ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোভাইরাস, এবং আরএসভি নামে আরেকটি ভাইরাস – এর সবগুলোরই আচরণ মোটামুটি একই রকম।

তবে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এ্যান্ড ট্রপিক্যার মেডিসিনের ড. রেচেল লো বলছেন, “এগুলো হয়তো মৌসুমি হতে পারে, কারণ অন্য কিছু ভাইরাস আছে যেগুলো শীতকালে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যায় – কিন্তু আবহাওয়া নাকি মানুষের আচরণ, কোনটার প্রভাব এখানে বেশি এখনো তা বোঝার ক্ষমতা খুব সীমিত।”

তবে দেখা গেছে, মানবদেহের বাইরের পরিবেশ যখন ঠান্ডা – তখন সব ভাইরাসই অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের জন্য বিশেষ করে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশেষ অনুকুল বলে দেখা গেছে।

সূর্যের আলোয় যে অতিবেগুনি রশ্মি থাকে তা ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। কিন্তু শীতের সময় অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণও কম থাকে।

শীতপ্রধান দেশগুলোতে ঠান্ডার সময় লোকে ঘরের ভেতরেই বেশি থাকে। দরজা জানালা থাকে বন্ধ থাকে। বাতাস চলাচল করে কম। এবং এই পরিবেশই করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য সহায়ক।

ব্রিটেনের একাডেমি অব মেডিকাল সায়েন্সেস-এর এক পূর্বাভাসমূলক রিপোর্ট বলছে, শীতের সময় ব্রিটেনের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ হলে তাতে আড়াই লাখেরও বেশি লোক মারা যাবে।