চকরিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে ৩ মাদক কারবারি নিহত

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০ | আপডেট: ১০:০৫:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

কক্সবাজার।কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইয়াবার বড় চালান হাতবদলের সময় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাতনামা তিনজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদককারবারি ও সন্ত্রাসী।

শুক্রবার ভোরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার বানিয়ার ছড়া পাহাড়ি আমতলী গর্জন বাগানের ভেতরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং দেশে তৈরি দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি ও ১৫ রাউন্ড ব্যবহৃত গুলির খোসা জব্দ হয়েছে। এ সময় ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন বলে দাবি করেছেন চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান।

ওসি হাবিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা এলাকা থেকে জাহেদা বেগম ও মোজাফ্ফর আহমদ নামের দুজন মাদককারবারিকে ছয় হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তথ্য দেয় যে, একই রাতে বানিয়ার ছড়া পাহাড়ি এলাকায় ইয়াবার একটি বড় চালান হাতবদল হবে। সেই চালান এবং মাদক ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশও অভিযান শুরু করে। বানিয়ার ছড়া পাহাড়ি আমতলী গর্জন বাগান এলাকায় পুলিশ পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ইয়াবাকারবারিরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। রাত ৩টা থেকে থেমে থেমে প্রায় এক ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। মাদককারবারি ও সন্ত্রাসীরা অন্তত ৩০ রাউন্ড এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ছোড়া হয় প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ওসি আরও জানান, ঘণ্টাখানেক পর অপরপক্ষ থেকে গুলি ছোড়া থেমে গেলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করা হয়। সেখানে তিনজনের গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া যায়। গোলাগুলিতে ওসি নিজে (হাবিবুর রহমান), হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন ও মো. সবুজ আহত হন।

গুলিবিদ্ধ দেহ এবং আহত পুলিশ সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে গুলিবিদ্ধদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তাৎক্ষণিক নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ওসি হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বন্দুকযুদ্ধে নিহত তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তারা মাদককারবারি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক তিনটি মামলা রুজু হচ্ছে বলেও জানান তিনি।