“আমাদের কোরবানি কি সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে?”

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০ | আপডেট: ৭:০৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০
অর্থ সংকটের কারণে এবার কোরবানি দেওয়া হয়নি। মন খারাপ হলেও ব্যাপারটা ধীরে ধীরে মেনে নিয়েছি। বৈশ্বিক মহামারীর এই সময়ে মনে হয়েছে আমার মত অসংখ্য মানুষ রয়েছেন যারা ইচ্ছা থাকা সত্বেও এবারের কোরবানিতে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। আমার মত অনেকেই ভুলে যেতে চাইছেন বিষয়টা। কিন্তু যাদেরকে আল্লাহ সামর্থ্য দিয়েছেন এই দুঃসময়েও কোরবানি করার,তারা আমাদেরকে বারেবারে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে আমরা কতটা অসহায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গরু ছাগলের ছবি দিয়ে প্লাবিত করে ফেলছেন। ক্যাপশনে যদিও লেখা থাকছে আলহামদুলিল্লাহ্, কিন্তু সেটা কতটা বিশুদ্ধ তাতে প্রশ্ন থেকে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার চেয়ে মানুষ দেখানোটাই প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। অথচ কোরবানি অথবা অন্য যেকোনো ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হওয়া উচিত ছিলো। সেখানে আমরা যেটা করছি সেটা অবশ্যই ভালো কিছু হচ্ছে না।
অমুক ব্যক্তি পাঁচটা গরু কুরবানী দিচ্ছে, তাহলে আমি ছয়টা দিব। সমাজে আমার নাম হবে, সবাই আমাকে বাহবা দিবে। আপনার সামর্থ্য আছে আপনি দশটা কোরবানি দেন, তাতে কোন সমস্যা নেই। যেকোনো ইবাদত ও ভালো কাজে প্রতিযোগিতা খুবই প্রশংসনীয় একটি বিষয়। কিন্তু সেটা কাকে খুশি করার উদ্দেশ্যে করছেন সে বিষয়টাও ভাবা দরকার।
হাট থেকে গরু,ছাগল কিনে বাসায় ফেরার পথে অনেক মানুষ পশুর দাম জিজ্ঞেস করেন। উত্তর দিলেই তারা কিছু না কিছু মন্তব্য করেন।যেমন, ভাই জিতেছেন কিংবা হেরেছেন। এসব কথা শুনে অনেকের মন খুশি হয়, অনেকেই দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। যারা মন্তব্য করছেন তারা কোরবানির মূল বিষয়বস্তুটা না বুঝেই করছেন। আর যারা খুশি অথবা দুঃখ পাচ্ছেন তাদেরও নতুন করে শেখা উচিত কোরবানি আসলে কি।
কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর জন্য নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগ করা। যে সমস্ত বিষয় আমাদেরকে তৃপ্তি দেয় কিন্তু আল্লাহ পছন্দ করেন না সেটা ত্যাগ করার মাধ্যমেও কুরবানীর মূল মন্ত্র প্রতিপালিত হয়। বাহ্যিক  কোরবানির পাশাপাশি নিজের মনের পশুকেও কোরবানি করা’ই হোক আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
সৃষ্টিকর্তা সবাইকে সুবুদ্ধি দান করুক ।
শাকিল হাসান, সিঙ্গাপুর থেকে।