পুলিশের টেনে হিচড়ে কনসাল্ট্যান্ট রাশিদ আব্বাসিকে গ্রেপ্তারঃএনএইচএস,পুলিশ ও টার্মিনালি ইল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২০ | আপডেট: ৫:০৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ। সানডে মেইল। একজন বাবা ও মা-যারা নিজেরাই কনসাল্ট্যান্ট এবং জিপি ছিলেন দীর্ঘদিন, নিজের টার্মিনালি ইল শিশু(৭-৮) জয়নব এর অসুস্থ্যতা নিয়ে ট্রিটম্যান্ট ও কেয়ার নিয়ে ইস্যুকে কেন্দ্র করে এনএইচএস হাসপাতাল কর্তব্যরত ডাক্তার, কেয়ার টিম এবং পরিবারের মধ্যে মতদ্বৈততার প্রেক্ষিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিলো। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে সেই সময়কার ঘটনার প্রেক্ষিতে আসলেই সেদিন কী ঘটেছিলো? প্রশ্ন উঠেছে মাত্র ৫ মিনিটের স্বাভাবিক বাক্য বিনিময়ের পর কিভাবে একজন বাবাকে তার অসুস্থ্য মেয়ের কাছ থেকে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো-যখন তিনি চিৎকার করছিলেন আমার বুকে কষ্ট হচ্ছে, আমার পকেটে মেডিসিন হার্টের নিতে হবে। একই সময়ে পুলিশ ধাক্কা দিয়ে তার স্ত্রী ডাঃ আলেয়া রাশিদকেও মাটিতে ফেলে দেয়।

অথচ পুলিশ আসার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই তাদেরকে হাসপাতাল জানিয়েছিলো, তাদের মেয়ে জয়নবের লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হবে-মৃত্যু বরন করতে দেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প চিকিৎসা নেই। এই অবস্থায় তাদের মনের অবস্থা এবং সে সময় তারা হাসপাতাল কেয়ার টিমের সাথে দ্বিমত করেছিলেন লাইফ সাপোর্ট না খুলে আরো বিকল্প কিছু করার জন্য।

তারা বলছিলেন, তাদের এভিডেন্স প্রমাণ করে জয়নব ভেন্টিলেটর থাকা অবস্থায় ভিডিও গেইম, মিউজিক, ডাকে সাড়া দিচ্ছে।

এ নিয়ে শিশু জয়নবের ভেন্টিলেটর খুলে দিয়ে মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত ও আদেশের জন্য পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

জানা যায়, ২০১৩ সালে জন্ম নেয়া শিশু জয়নব স্বাভাবিক হলেও কিছুটা শারিরীক বাড়ন্তের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়েছিলো পরবর্তীতে। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে প্যানডেমিক সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হলে শিশু জয়নব হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে চলে যায়।

রাসিদ আব্বাসী নিজে একজন কনসাল্ট্যান্ট। দীর্ঘ ৩০ বছর এনএইচএসের কনসাল্ট্যান্ট হিসেবে অপর একটি হাসপাতালে ছিলেন। তার স্ত্রী নিজেও একজন ডাক্তার ছিলেন।স্বাভাবিকভাবেই অনেক ইস্যুতেই উভয়ের(তাদের ও হাসপাতালের) মধ্যে বিতর্ক হয়েছিলো বুঝাই যায়। শিশু জয়নবের লাইফ সাপোর্ট খুলা নিয়ে হাসপাতাল ও তাদের মধ্যে মিটিং এর ফলাফল সুখকর ছিলোনা বলে জানা গেছে।

হাইকোর্টে যখন আব্বাসি আবেদন জানান স্টেরোয়েডের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়ে তার মেয়ে জয়নবের জীবন রক্ষায় চেষ্টা চালানোর জন্য, দুদিনের সেই জরুরী হিয়ারিং চলাকালীন সময়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের আগেই শিশু জয়নব মারা যায় (গতবছর)।

তার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন তাদের জানায় জয়নবের লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হবে-তা তারা মানতে রাজী হননি। তাদের তখন ধারণা হয়েছিলো লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়ে তাদের জয়নবকে হত্যা করা হবে(মৃত্যু)। তাই রাশিদ দম্পতি জয়নবের পাশেই রয়ে যেতে চেয়েছিলেন। হাসপাতাল চাইছিলো তাদেরকে জয়নবের পাশ থেকে সরিয়ে নিতে। হাসপাতাল সেই ইস্যুতে পুলিশ কল করে। পুলিশ এসে পাচ মিনিট কথোপকথন করে রিকুয়েস্ট করে রাশিদ আব্বাসিকে বাইরে আসতে তাদের সাথে বাইরে কথা বলার জন্য। রাশিদ আব্বাসি নিরুত্তর থেকে মিসেস আলেয়া আব্বাসি জয়নবের কাছে থাকার এবং হাসপাতালের বক্তব্য জানিয়ে কাছে থাকার কথা বলেন। পুলিশ ৫ মিনিট বার বার একই কথা বলতে থাকেন। ৫ মিনিট কথোপকথনের পর এনএইচএসের সাবেক কনসাল্ট্যান্টকে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলে টেনে বের করে নিয়ে যায়। এসময় রাশিদ বার বার চিতকার করে নিজের বুকের ব্যাথা ও পকেটে থাকা মেডিসিন নেয়ার কথা বলেন।

পুলিশ রাশিদকে গ্রেপ্তার করলেও তার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে গ্রেপ্তার ইস্যু থেকে বাদ দেয়।

জয়নবের মৃত্যু হলেও পুলিশ কমিশন ও সোশ্যাল সার্ভিস এর পর্যবেক্ষন থেমে থাকেনি। সানডে মেইলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর ব্রিটেনে এ নিয়ে ঝড় উঠেছে-এথিকস, সেবা, জোর জবরদস্তি ও নৈতিকতা নিয়ে।