ভোলার নদীতে অসংখ্য ডুবুচর,কূলে ডেউয়ের তোরে হুমকির মুখে রক্ষাবাধ,ড্রেজিং এর দাবী

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২০

মোঃ জহিরুল হক ভোলা থেকে।ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়ায় বর্ষা মৌসুমেও মাছ নদীতে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠার কারনে বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে নৌ চলাচলে। চর জেগে উঠার কারনে মাছ শিকার করতে গিয়েও বিরম্বনার মধ্যে পড়ছেন জেলেরা। তারা বলছে চর জেগে উঠার কারনে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছ পাওয়া যাচ্চেনা।কারন গভীর পানি ছাড়া ইলিশ সহ অনান্যা মাছ থাকে না। এছাড়াও একই কারনে নদীর গতিপথ পাল্টা স্রোত বৃদ্ধি পেয়ে কূলে আঘাত হানার কারনে।
যেমন নদী ভাঙ্গনের সম্ভবনা রয়েছে অন্যদিকে বেশ কিছু পয়েন্ট দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মীত শহর রক্ষা বাঁধও।
এ অবস্থায় ডুবোচরগুলোকে দ্রুত ড্রেজিং করার দাবী এলাকাবাসীর।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও ভোলার মেঘনা নদীতে অসংখ্য ডুবোচর জেগে রয়েছে। বিশেষ করে ধনিয়া, কাচিয়া ও ইলিশা নৌ চ্যানেলে রয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। এসব চরের কারনে ব্যাহত হচ্ছে নৌ যান চলাচল। আর এ কারনেই অনেক ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে নৌ যানগুলোকে। কখনো আবার মাঝ নদীতেই আটকে যায় নৌ-যান। শুধু তাই নয়, মাছ শিকারের গিয়েও বিপাকে পড়ছেন জেলেরা।
বাতেন মাঝি, জামাল, মুনাফা,কামালসহ কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নৌকা চরে আটকে যায়, অনেক সময় আবার জাল আটকে ছিড়ে যায়। কোথায় চর রয়েছে আর কোথায় চর নেই সেটা বুঝা যায় না। বেশীরভাগ এলাকায় এ অবস্থা। তাছাড়া গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছও তেমন পাওয়া যায় না।
কাচিয়া ও ধনিয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, শীত মৌসুমে ডুবোচর থাকলেও এখন বর্ষায়ও সেই ডুবোচর। উজান থেকে পানির সাথে আসা পলি জমে সৃস্টি হয়েছে ডুবোচর । এসব চরের সাথে টেউ আঘাত হানছে কূলে । এতে ভোলা শহর রক্ষাবাধের বিভিন্ন জায়গায় ভাংঙ্গনের সৃস্টি হয়েছে । এছাড়াও নৌ পথে ভোগান্তি হচ্ছে। বিশেষ করে নদীর গতিপথ পাল্টে যাওয়ায় স্রোত বেড়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে নদীর তীরবর্তী, বসতি ও স্থাপনা।
এলাকাবাসী আরো জানায়, নদীর ঢেউ চরে বাধাগ্রস্থ হয়ে পাল্টে গেছে নদীর গতিপথ এতে স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারনে নদীর কুলে আছড়ে পড়ছে স্রোত। আর তাই ঝুঁকিতে বাঁধের বেশ কিছু পয়েন্ট। তাই নদীতে ড্রেজিংয়ের দাবী এলাকাবাসীর।। তবে যতটুকু যানা গেছে জেলার সদরের অন্তত ১০ কিলোমিটার পয়েন্টে ডুবোচর রয়েছে। পুরো জেলায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় ডুবোচর ডেজিংয়ের একটি প্রকল্প রয়েছে, সার্ভের মাধ্যমে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
উজান থেকে নেমে আসা পলির কারনে ডুবচরের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদ্য যোগদানকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান বলেন আমি মাত্র যোগদান করেছি তথ্যটা জেনে জানাতে হবে। ডিভিশন ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন কমিটিতে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে।জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে বালু মহল ঘোষনার পরে এগুলোকে সার্ভে করে অনুমোদন সাপেক্ষ ড্রেজিং এর ব্যবস্থা করা হবে