আল জাজিরা অফিসে অভিযান মালয়েশিয়া পুলিশের

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০ | আপডেট: ১:৩৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

লন্ডন টাইমস, মালয়েশিয়া। রয়টার্স। লকডাউনের মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিবেদনের ঘটনা তদন্তের মধ্যেই আল জাজিরা অফিসে অভিযান চালিয়েছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে তাদের কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে দুটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়। করোনাভাইরাসের মধ্যে অননুমোদিত বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিবেদন তদন্তের মধ্যেই এ অভিযান চালানো হয়।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আল জাজিরার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, মানহানি ও তথ্য যোগাযোগ আইন লংঘনের অভিযোগ এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ঘটনায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো মালয়েশিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমন করার অভিযোগ এনেছে।

গত ৩ জুলাই আল জাজিরার ইংরেজি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রোগ্রামটিকে দেশটির কর্তৃপক্ষ ভুল, বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করে।

২৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস মহামারীতে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে সরকারের আচরণ নিয়ে কথা বলেছিলেন রায়হান কবির।

সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে এর সমালোচনা শুরু করে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার ওই প্রতিবেদনে তোলা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

আল জাজিরার ওই প্রতিবেদন প্রচারের পর থেকেই সাক্ষাৎকার দাতা বাংলাদেশি রায়হার কবিরের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তার বিষয়ে তথ্য দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিও দেয়া হয়। পরে রায়হানের ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) বাতিল করে দেয়া হয়।

এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক টুইট বার্তায় জানানো হয়। গ্রেফতারের পর তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করায় মালয়েশিয়া প্রশাসনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের ২১টি সংগঠন। তারা দ্রুত রায়হানের মুক্তির দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে।

এছাড়া মো. রায়হান কবিরের মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার দুজন আইনজীবী।

রায়হান কবিরের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বন্দরে। তার বাবা শাহ আলম একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ২০১৪ সালে তোলারাম কলেজে থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে মালয়েশিয়া চলে যান রাহয়ান। সেখানেই বিএ পাস করেন।