গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশে পরিবর্তন আসবে— মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০ | আপডেট: ৯:২৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

ঢাকাগণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘হতাশার কোনো জায়গা নেই। পরিবর্তন তো হবেই, পরিবর্তন আসতে হবে। সেই পরিবর্তনের জন্যই কাজ করতে হবে। জনগণকে সামনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সবার মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেরকেই পরিবর্তন আনতে হবে, দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলে দেশে পরিবর্তন আসবে।’

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সদ্য প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল খান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্মরণে এ সভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যে লড়াইটা করছি— সেটা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, এ দেশের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য লড়াই, এ দেশের মানুষকে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই। এই লড়াইয়ে প্রায় বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে। গণতান্ত্রিক অবস্থা তারা ফিরে পেতে চায়, তারা গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চায়, তারা অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা ভোট দিতে চায়।’

‘কিন্তু হচ্ছে না, পারা যাচ্ছে না। কারণ, এখানে এমন একটা শক্তি, যে শক্তি পুরোপুরিভাবে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে দখল করে নিয়ে, ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এ জন্য এখন আমাদের ভাবতে হবে,’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এখন বিশ্ব পরিস্থিতি যা আছে, সেই বিশ্ব পরিস্থিতিতে যে রাজনীতি সেখানে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণটা কিভাবে? এটা এত সহজ নয়। ডিক্টেটর থেকে ডেমোক্রেসি অথবা ফ্যাসিজম থেকে ডেমোক্রেসি— এটা এত সহজে আসে না। এরজন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, অনেক প্রাইস পে করতে হয়। আমরা বিএনপি এরই মধ্যে প্রচুর দাম দিয়েছি, দিচ্ছি, দিয়ে চলেছি।‘

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিথ্যা মামলা বিএনপির ২০ লাখ নেতাকর্মী আসামি, এক লাখের ওপরে মামলা, হাজারের বেশি মানুষ গুম হয়ে গেছে, হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়ে গেছে। কথা বলার কোনো স্বাধীনতা নেই, বিচার পাওয়া যাচ্ছে না।  অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জনগণকে সংগঠিত করা। এই ভয়াবহ স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে। তাদেরকে সংগঠিত করতে হবে। জনগণকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।’

শফিউল বারীর বাবুর ব্যক্তিগত জীবনের কথা উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাবুর ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা আছে। মেয়েটার বয়স ৯ বছর, ছেলেটার বয়স বোধহয় ৫ বছরের কিছু বেশি হবে। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই এখানে। ভাড়া বাসায় আছে এবং জানে না ভবিষ্যৎ কী হবে। কারণ, বাবুর স্ত্রী আগে একটা কাজ করত, কিছুদিন হলো সেই কাজটা ছেড়ে দিয়েছে। আমি আজকে সবার কাছে অনুরোধ জানাব, আপনারা যারা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, যারা সত্যিকার অর্থে ত্যাগী নেতৃত্ব তৈরি করতে চান, তারা দয়া করে এগিয়ে আসবেন এবং এই পরিবারটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করবেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাবু (শফিউল বারী বাবু) ও আউয়াল খানকে (আবদুল আউয়াল খান) হারিয়ে আমরা উদীয়মান দুই নেতাকে হারালাম। আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘নেতা একদিনে তৈরি হয় না। তাদের জীবনটা যদি আলোচনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে— নেতা হতে হলে কত পরীক্ষা, কত ত্যাগ, কত জেল, কত জুলুম, কত মামলা খেয়ে একজন নেতা হতে পারে। এই দুই উদীয়মান নেতা আমাদের থেকে চলে যাওয়ায় বিএনপির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে, সেটা আমরা এখন বলতে পারব না।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খান খোকন, হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু ও স্বেচ্ছাসেব দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল।