৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ‘প্রথম স্বীকৃতি’ সুজনের

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০ | আপডেট: ৯:৪১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

চট্টগ্রাম ব্যুরো১৯৭০ সালে যখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখন যোগ দিয়েছিলেন ছাত্রলীগে। রাজনীতিতে ওই পথচলা শুরু খোরশেদ আলম সুজনের। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পথপরিক্রমায় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনেও বসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফেরানোর সংগ্রামে ভূমিকা ছিল তার। নব্বইয়ের দশকে দেশ গণতন্ত্রে উত্তরণের পর যুক্ত হন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে, ছিলেন প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাবশিষ্য। গভীর রাজনৈতিক জ্ঞানের কারণে আওয়ামী লীগের তাত্ত্বিক নেতা হিসেবেও পরিচিতি ছিল তার।

কখনো রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে, কখনো নাগরিক সংকট সমাধানের দাবিতে বারবার রাজপথই ঠিকানা হয়েছে সুজনের। তিন বার সংসদ সদস্য পদে এবং দুইবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। তবু দমে যাননি। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সুজনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক নিযুক্ত করেছে। সুজনের ভাষায়, ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের প্রথম স্বীকৃতি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে খোরশেদ আলম সুজনকে চসিক প্রশাসক ঘোষণার পর নগরীর উত্তর কাট্টলীর সরু গলির নিভৃত বাড়িটির চিরচেনা পরিবেশ পাল্টে গেছে। ক্ষমতার রাজনীতির নানা হাতছানিকে দূরে ঠেলে যারা আপাদমস্তক রাজনীতিক সুজনের সঙ্গে ছিলেন, তাদের উচ্ছ্বাসে মুখর সেই বাড়িটি। যদিও শোকের মাস হওয়ায় খোরশেদ আলম সুজন বারবার নিষেধ করছিলেন কোনো ধরনের স্লোগান কিংবা অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস না দেখানোর জন্য। কারও ফুল-মিষ্টিও গ্রহণ করেননি।

ব্যস্ততার ফাঁকেই  কথা হয় সুজনের। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মীর মনের মধ্যে একটা ইচ্ছা থাকে— এমপি-মন্ত্রী হয়ে কিংবা প্রশাসনিক যেকোনো পদে থেকে জনগণের সেবা করবে। আমিও একজন রাজনৈতিক কর্মী। ৫০ বছর ধরে রাজনীতি করছি। আমার মনেও অবশ্যই এই বাসনা আছে। ৫০ বছর পর আমি প্রথম স্বীকৃতি পেয়েছি। এই মূল্যায়নের সম্মান রাখার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব।’

আবেগাপ্লুত হয়ে সুজন বলেন, ‘আমাকে যে স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। যারা আমার মতো স্কুলজীবন থেকে রাজপথে হেঁটে, মানুষের সঙ্গে থেকে, জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাজনীতি করেছেন, যারা বিভিন্ন কারণে হতাশায় পড়েছিলেন, আমি মনে করি তাদের মনোবল ফিরে আসবে এবং দৃঢ় হবে।’

জানা যায়, স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙালি সৈনিকদের সেবা দেন সুজন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কলেজ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে চট্টগ্রামে প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন। সত্তরের দশকের শেষ ভাগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদবিরোধী কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হয়ে ঢাকায় আন্দোলন সংগঠিত করেন এবং দুই বার কারাবরণও করেন।