‘গৃহকোণ থেকে জনগণের হৃদয়ে’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনার ‘বঙ্গমাতা তার জমানো টাকা ছাত্রনেতাদের দিতেন’

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০ | আপডেট: ৩:১৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০

লন্ডন টাইমস ঢাকা।পৃথিবীতে কিছু মহিয়সী নারী আছেন যারা মহামানবকে তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন। আমাদের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তাদের মধ্যে একজন।

তিনি বঙ্গবন্ধুর চলার পথকে মসৃন করেছিলেন। তার মধ্যে আদর্শ, মানবতা ও দেশপ্রেম ছিল বলেই বঙ্গবন্ধুর চলার পথে কখনও বাধা হননি। বরং হয়েছেন চলার পথের শক্তি, হয়েছেন প্রেরণা। তার জমানো টাকা পরিবারের পেছনে খরচ না করে ছাত্রনেতাদের দিতেন আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে নেয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের সাহস জুগিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন।

বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের ‘গৃহকোণ থেকে জনগণের হৃদয়ে’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সাবেক ছাত্রনেতা ও কলামিস্ট সুভাষ সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমদ, উপ-উপাচার্য ও কবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত।

আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুর কোনো পিছুটান ছিল না বলেই বঙ্গবন্ধু দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যেতে পেরেছিলেন, আর বঙ্গবন্ধুর এই চলার পথকে মসৃন করেছিলেন তার স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি বলেন, বেগম মুজিবের মধ্যে কিছু ঐশ্বরিক ক্ষমতা থাকতে পারে, নয়তো যে বয়সে ছেলেমেয়েদের বাবা-মার কাছে আবদার থাকে সে বয়সেও বেগম মুজিব বায়না না করে বঙ্গবন্ধুর হাতে তার জমানো টাকা তুলে দিতেন। যাতে বঙ্গবন্ধুর কলকাতাতে কষ্ট না হয়। এই যে তার ত্যাগ, সেই ত্যাগের বিনিময়েই বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠা। বঙ্গবন্ধুর জীবনে সবচেয়ে বড় আশির্বাদ হিসেবে বেগম মুজিব এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে যেভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন, মূল্যায়ন করেছিলেন তা তার লেখনির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

বঙ্গমাতার সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করে আমু বলেন, আমরা যারা ছাত্র রাজনীতি করতাম আমরা সবচেয়ে বেশি তার সান্নিধ্য পেয়েছি, বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকা অবস্থায়। তিনি আমাদের সাহস জুগিয়েছেন, পরামর্শ ও আর্থিক সাহায়তা দিয়েছেন। এমনকি ঈদ করার টাকাও আমাদের দিয়েছেন ছাত্র আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তার জমানো টাকা পরিবারের পেছনে খরচ না করে আমাদের মতো ছাত্রনেতাদের দিতেন আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে নেয়ার জন্য।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বঙ্গমাতাকে দেখার, বাবার সঙ্গে ৩২ নাম্বার বাড়ি গিয়েছিলাম একবার। তাকে দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম, এত বড় একজন মানুষের স্ত্রী এত সাধারণ হবে আমার ধারণাই ছিল না। পরবর্তীতে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে বঙ্গমাতাকে নিয়ে আমার জানার আরও সুযোগ হয়, তার মধ্যে আদর্শ ছিল, মানবতা ছিল, দেশপ্রেম ছিল বলেই বঙ্গবন্ধুর চলার পথে কখনও বাধা হননি তিনি, বরং হয়েছেন চলার পথের শক্তি, হয়েছেন প্রেরণা।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, পৃথিবীতে কিছু মহিয়সী নারী আছেন যারা একজন মহামানবকে তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন আমাদের বঙ্গমাতা বেগম মুজিব তাদের মধ্যে একজন। বঙ্গবন্ধুর যে তিন খণ্ড আত্মজীবনী বের হয়েছে, সেগুলো লিখতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন বঙ্গমাতা। ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেছেন বঙ্গমাতা মুজিব।

ড. নাসরীন আহমদ বলেন, আমরা প্রতিবেশি ছিলাম। দুই বাড়ির মাঝে ছোট একটা দেয়াল, একটা ছোট গেইট। সেই গেইট দিয়ে আমাদের অবাদ যাতায়াত ছিল। তাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন থেকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবাদ যাতায়াত ছিল। আর এসব সামলাতেন বঙ্গমাতা। আমরা তাকে কখনও কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি, দেখিনি তাকে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে। নিজের বিয়ের সময় হলুদের অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার উপস্থিতি ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সম্পর্কে নানা জানা-অজানা কথা তুলে ধরেন সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত। তিনি বলেন, বঙ্গমাতা একজন শান্ত ধীরস্থির ধৈর্যশীল সাহসী প্রজ্ঞাবান তেজস্বিনী এবং অমায়িক মানুষ ছিলেন। দেশের জন্য তিনি তার দুই সন্তানকে মাতৃভূমি স্বাধীন করার লড়াইয়ে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনে শতবার দেখা করতে যাওয়ার ঘটনাও প্রবন্ধে উল্লেখ করেন এই সাংবাদিক।