ব্রাম্মণবাড়িয়ায় বড় হুজুরের জানাজায় মানুষের ঢল

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০ | আপডেট: ৪:৩৮:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০

ব্রাম্মণবাড়িয়া।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিদিনই নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৭ জন। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রতিনিয়ত মানুষজনদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু এ নির্দেশনার তোয়াক্কা করছেন না অনেকেই।

এবার এই করোনা আতঙ্কের মাঝেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশিষ্ট আলেম আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজীর জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে।রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের ভাদুঘর এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। ভাদুঘর জামিয়া সিরাজীয়া দারুল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সিরাজী ‘বড় হুজুর’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

 

বার্ধক্যজনিত কারণে রোববার দুপুরে ভাদুঘরের নিজ বাড়িতে মারা যান মনিরুজ্জামান সিরাজী। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আমির ছিলেন।বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় বিকেল ৪টা থেকেই ভাদুঘরে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার মানুষ। ভাদুঘর জামিয়া সিরাজীয়া দারুল উলুম মাদরাসার সামনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন মনিরুজ্জামান সিরাজীর নাতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ্ সিরাজী।

 

জেলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন জানাজায় অংশ নিতে। জানাজার কারণে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার অংশজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে জানাজায় জনসমাগম সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের যেটা করণীয় সেটা করেছি। তাদের বলেছি, সামাজিক দূরত্ব রেখে করতে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানে। সব জায়গায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।

 

এর আগে লকডাউন ভেঙে গত ১৮ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকার জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজার নামাজেও লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল। মাঠে জায়গা না পেয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত দুই কিলোমিটার অংশে জানাজায় অংশ নেন মানুষ। পরে জানাজা শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণেই মরদেহ দাফন করা হয়।