সিলেট সিটিকে আট গুণ বড় করা দরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০ | আপডেট: ১:০৬:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০

সিলেট থেকে প্রতিনিধি। সিলেট সিটি করপোরেশনকে দ্বিগুণ নয়, আট গুণ বড় করা দরকার বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়তন দ্বিগুণ বাড়িয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সিটির আয়তন বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বড় হবে। তবে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এই নগরীকে অন্তত আট গুণ বড় করা দরকার ছিল।

আজ বুধবার বিকেলে নগর ভবনে ‌‘আগামীর সিলেট’ প্রকল্পসংক্রান্ত এক সভায় স্থানীয় সাংসদ (মহানগর-সদর) হিসেবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্সকেইপ অ্যান্ড সেটেলমেন্ট ‘আগামীর সিলেট’ নামে সিলেটের উন্নয়নের এই রূপকল্প উপস্থাপন করে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হকের সভাপতিত্বে সভায় ‘আগামীর সিলেট’ প্রকল্প উপস্থাপন করেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্সকেইপ অ্যান্ড সেটেলমেন্টের রিসার্চ অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের প্রধান নুসরাত সুমাইয়া। সভায় স্থপতি শাকুর মজিদ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী বক্তব্য দেন। সিসিকের কাউন্সিলর-কর্মকর্তাসহ নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী সিলেটকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ‌‘আগামীর সিলেট’ নামে একটি রূপকল্প নিয়ে ২০১৭ সালে সিলেটে প্রদর্শনী করে। সেই প্রকল্পের নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে নগরীর মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সুরমা নদী সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, হজরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.) মাজার কমপ্লেক্স, সিলেটের পুরাতন জেল ও ধোপাদিঘি পুনঃ সংস্কার ও রূপান্তর, সুরমা রিভার ব্যাংক কনভেনশন সেন্টারসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরের ট্রাফিক সিস্টেম উন্নয়ন, গণপরিবহন পরিকল্পনা, জলাশয় সংরক্ষণ ও হেঁটে চলাচলের রাস্তা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ছিল।

মাল্টিমিডিয়ায় প্রকল্পটি দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সিলেটকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে সাজাতে এই গবেষণা কাজে লাগবে। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সিলেটের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে। এর জন্য আরও বেশি গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রয়োজন।’

নগর বড় হলে রাজস্ব আয় বাড়বে, উন্নয়নও বাড়বে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তৃতায় বলেন, সিটি করপোরেশন আরও বড় হলে আয় আরও বাড়বে। এতে উন্নয়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে। আপাতত সিটিকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। তবে আরও অনেক ইউনিয়ন আছে, যারা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। তারা তাদের দাবি তুলুক। ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, ২০১৪ সালে সিটিকে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় সিসিক। নগরীর বর্তমান আকারের প্রায় দ্বিগুণ আয়তন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় পাঁচ বছর ধরে আটকে থাকা প্রস্তাবটি নিয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সিলেট-১ (মহানগর-সদর একাংশ) আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বৈঠকে অংশ নিয়ে নগরীর আয়তন বাড়ানোর প্রস্তাবে একাত্মতা পোষণ করেন। ওই বৈঠকের প্রায় ৯ মাস পর ৯ আগস্ট সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিধি বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সিলেট জেলা প্রশাসন। গণবিজ্ঞপ্তিতে ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিটি করপোরেশনকে প্রায় ৫৭ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাবিত এসব এলাকা নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি কিংবা পরামর্শ থাকলে আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিলেট জেলা প্রশাসনে লিখিতভাবে দাখিল করতে গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

১৮৭৮ সালে পৌনে দুই বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল সিলেট পৌরসভা। ২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে এর পরিধি বাড়ে। তখন ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার করা হয় সিটি করপোরেশনের আয়তন।