রিপাবলিকানদের টিকেট কনফার্ম করেই ট্রাম্পের হুশিয়ারি-বাইডেন ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ ধূলিসাৎ করে দেবে

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৮:২১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।যুক্তরাষ্ট্র্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিন দলীয় মনোনয়ন গ্রহণের পর ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন জিতলে স্বাধীনতা, সমৃদ্ধির সুযোগ ও সফলতার ধারণা সংবলিত ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সাইথ লন থেকে সম্মেলনে যুক্ত হন। নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্র্রের বিভিন্ন শহরে ‘সহিংস অরাজকতা’ ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, আপনার ভোটই ঠিক করে দেবে আমরা কি আইন মেনে চলা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারব, নাকি আমরা সহিংস নৈরাজ্যবাদী ও অপরাধীদের লাগাম খুলে দেব, যেন তারা আমাদের নাগরিকদের হুমকি দিতে পারে।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনই ঠিক করে দেবে আমরা আমেরিকান স্বপ্নকে বাঁচাতে পারব কিনা। নাকি আমরা আমাদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে ধূলিসাৎ করতে সমাজতান্ত্রিক বিষয়াবলিকে অনুমোদন করব। ট্রাম্পের বক্তৃতায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনের নাম ৪০ বারের বেশি এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় বাইডেন একবারও ট্রাম্পের নাম নেননি, যদিও তার আক্রমণের মূল লক্ষ্যই ছিল ৭৪ বছর বয়সী এ রিপাবলিকান ও তার কর্মকাণ্ড।

ডেমোক্র্যাটরা তাদের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র্রকে বর্ণবাদী, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবিচারের দেশ হিসেবে চিত্রিত করেছে বলেও ট্রাম্প অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আজ রাতে আমি আপনাদের খুবই সাধারণ একটি প্রশ্ন করি। কীভাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে আমাদের দেশকে নেতৃত্ব দিতে আহ্বান জানানো যায়, যখন তারা তাদের বেশিরভাগ সময়ই ব্যয় করে আমাদের দেশকে টুকরো টুকরো করতে? ট্রাম্প বলেন, পশ্চাৎপদ বাম ধারণার কারণে তারা আমাদের দেশকে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে মুক্ত, ন্যায়পরায়ণ ও ব্যতিক্রম হিসেবে দেখে না, দেখে খারাপ দেশ হিসেবে যাকে নিজের পাপের জন্যই শাস্তি দেয়া উচিত।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোত বাইডেনকে ট্রাম্পের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। রিপাবলিকান সম্মেলন শেষ হওয়ার পর এখন দুই শিবিরই দোদুল্যমান হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোর ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাইডেন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সব সময় শ্রমিকবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট; ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ‘ট্রোজান হর্স ফর সোশ্যালিজম’ হিসেবেও চিত্রিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চায়নাভাইরাস’ হিসেবে অভিহিত করে ভাইরাসটি ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ী করে বক্তব্যের বেশিরভাগ সময় চীনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলেন। ভ্যাকসিন নিয়ে এসে এ বছরই করোনা নির্মূল করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, বাইডেন চীনের পুতুল এবং সে যদি জিতে যায় তাহলে আমাদের দেশের মালিক বনে যাবে চীন। আমি চীনের নানা অপকর্মের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি কিন্তু বাইডেন একে জাতিগত বিদ্বেষ আর হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে বলছি, আব্রাহাম লিংকনের পর থেকে যে কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে আমি আফ্রিকান-আমেরিকানদের জন্য বেশি কাজ করেছি।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। টুইটারে বাইডেন বলেছেন, ‘যখন ট্রাম্প আপনাদের বলছে, জো বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্র্রে আপনারা নিরাপদ থাকবেন না। তখন আপনারা একটু আশপাশে তাকান এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন। ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র্রে আপনারা কতটা নিরাপদ আছেন?’

ট্রাম্পের বক্তৃতার আগে হোয়াইট হাউস থেকে আধা মাইল দূরে এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় ডেমোক্র্যাট ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসও মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজটি করতেই ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি মার্কিন জনগণের সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। রিপাবলিকান সম্মেলনের শেষ রাতে ট্রাম্প ছাড়াও তার মেয়ে ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ইভাংকা, হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা জা’রন স্মিথ, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের হাতে জিম্মি ও পরে সিরিয়ায় মারা যাওয়া কায়লা মুলারের বাবা-মা এবং জুনে সেইন্ট লুইস শহরে গুলিতে নিহত ডেভিড ডর্নের বিধবা স্ত্রীও বক্তব্য রাখেন। ৭৭ বছর বয়সী ডেভিড ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। দাঙ্গার মধ্যে বন্ধুর দোকান রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এদিন রিপাবলিকান সম্মেলনে বক্তৃতা করেন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ও নিউইয়র্কের এক সময়কার মেয়র রুডলফ গিউলিয়ানিও।

তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের শহরগুলোতে চলমান দাঙ্গা পরিস্থিতিই বাইডেনের অধীনে ভবিষ্যৎ কেমন হবে সে সম্বন্ধে আপনাদের একটি ভালো ধারণা দেবে।