ঢাকা ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

করোনা: ইতালির গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ‘অনিয়ন্ত্রিত ইমিগ্রেশন সিস্টেমের’ সমালোচনা

LTN
প্রকাশিত জুন ২৯, ২০২০
করোনা: ইতালির গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ‘অনিয়ন্ত্রিত ইমিগ্রেশন সিস্টেমের’ সমালোচনা

লন্ডন টাইমস নিউজ।বাংলাদেশের ‘অনিয়ন্ত্রিত ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ ইতালিতে পুনরায় করোনা ভাইরাস বয়ে আনছে বলে দাবি করেছেন ইতালির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইলজোর্নালে’। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ফেরা এগারোজন প্রবাসী বাংলাদেশির শরীরে এ ভাইরাস শনাক্তের পরে ‘বিমানবন্দরে বাছাই হচ্ছে না, বাংলাদেশ থেকে আসছে করোনা ভাইরাস’ এমন শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চার্টার্ড বিমানে বাংলাদেশ থেকে আসা বেশীরভাগ যাত্রীরাই হোমকোয়ারেন্টাইন মানছেন না। ফলে কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত থাকেন বাকিদের সাথে মিশে তাদেরও আক্রান্ত করছেন।

এ বিষয়ে দেশটির লাজিও শহরের কাউন্সিলর আলেসসিও দামাতো বলেন, স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার পর এক প্রবাসী বাংলাদেশি করোনামুক্ত হন। তিনি কিছুদিন আগে চার্টার্ড বিমানে বাংলাদেশ থেকে ইতালি আসেন। তার ভাষ্যমতে ওই ব্যক্তি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করার আগেই করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু কিভাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগ পাড় হলেন সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।

এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগ সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেনা কিনা সেটা খতিয়ে দেখা উচিৎ। আর বর্তমানে যেসব নিয়মনীতি মেনে ফ্লাইট ছাড়ার কথা বাংলাদেশের চার্টার্ড ফ্লাইট সেসব নিয়ম মেনে ফ্লাইট চালাচ্ছে কিনা সেটাও জানা উচিৎ। কারণ তাদের গাফলতিতে ইতালিতে আবারো নতুন করে করোনা রোগী আসছে।

এ ছাড়াও চলতি মাসের ২৪ তারিখে আরও এক বাংলাদেশির শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পরে। তিনিও সম্প্রতি চার্টার্ড ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ইতালি এসেছেন। তবে তিনি হোমকোয়ারেন্টাইন না মেনে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে কাজে যোগদান করেন। পরে সেখানে তার সংস্পর্শে এসে আরও দুই বাংলাদেশি করোনায় সংক্রমিত হয়। পরে পুলিশ এসে ওই রেস্টুরেন্টের সবাইকে দুই সপ্তাহের জন্য হোমকোয়ারেন্টাইনে পাঠায়।

২২ জুন সোমবার এক বাংলাদেশি ইতালিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে সেবা নিতে গেলে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত। পরে দূতাবাস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ওইদিন সেবা নিতে আসা সকলকে দুই সপ্তাহের জন্য হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির নেতাকর্মীরা বলছেন, এভাবে যদি বাংলাদেশিরা ইতালি ফিরে কোয়ারেন্টাইন না মানে তাহলে হয়তো দেশটির সরকার আবারো বাংলাদেশের সাথে তাদের ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে পারে। তাই তারা সকল প্রবাসীদের ইতালিতে ফিরে দুই সপ্তাহের জন্য হোমকোয়ারেন্টাইনে থাকার অনুরোধ জানান।