বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি দেড়লাখ টাকা করে পাবে নিহতদের পরিবারঃডুবে যাওয়া লঞ্চযাত্রীর ভয়াবহ বর্ণনা

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৭:০৯:অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক ।বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নিহতদের পরিবার দেড়লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে বলে জানিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে তিনি এই আশ্বাস দেন।
 এদিকে লঞ্চডুবির পর এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে মিটফোর্ড হাসপাতালে তাদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর চলছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক জানান, ময়ূর–২ নামের একটি লঞ্চ সদরঘাট লালপট্টি থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। ওই লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এতে মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি ডুবে যায়।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন জানান, ধাক্কা দেয়া লঞ্চ ময়ূর–২ জব্দ করা হয়েছে। তবে লঞ্চের চালক পালিয়ে গেছেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ জামাল জানান, উদ্ধার করা লাশের মধ্যে পুরুষ ১৯ জন। নারী ৮ জন ও শিশু ৪টি।

বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে। তবে, এটি আসতে আরো কিছু সময় লাগবে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সন্ধ্যা নাগাদ ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধারের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

হ্নদয়স্পর্শী বর্ণনা–ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘ময়ূর ২’ লঞ্চের ধাক্কায় ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী মো. মাসুদ বর্ণনা দিয়েছেন ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার।

তিনি বলেন, ‘ঘাটে ভেড়ার জন্য আমাদের লঞ্চ (মর্নিং বার্ড) সোজা আসছিল। অন্য একটা লঞ্চ (ময়ূর ২) তেছড়াভাবে (বাঁকা) রওনা দিছে। তেছড়াভাবে রওনা দেয়াতে ওই লঞ্চটা বাড়ি দিছে আমাদের লঞ্চের মাঝে। বাড়ি দেয়ার সাথে সাথে লঞ্চটা কাইত হয়ে ডুবে গেছে। তলায় যেতে ১০ সেকেন্ডও সময় নেয় নাই। আমি কেবিনে ছিলাম। গ্লাস খুলে আমি বের হইছি। ভেতরে আমার আপন দুই মামা ছিলেন। তারা তো বের হতে পারেন নাই। তাদের খোঁজ করছি।’

মাসুদ আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর লঞ্চে থাকা প্রায় ৫০ জনের মতো যাত্রী আমরা সাঁতরে উঠতে পারছি। বাকি যাত্রী কেউ উঠতে পারে নাই। তারা লঞ্চের ভেতরেই ছিল। আমরা প্রায় ১৫০ জনের মতো লোক ছিলাম।’

তিনি আরও জানান, রাজধানীর ইসলামপুরের গুলশানআরা সিটিতে কাপড়ের ব্যবসা করেন তিনি। প্রতিদিন তিনি সকালে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে কাপড়ের দোকান করেন। রোববার ময়মনসিংহ থেকে তার দুই মামা তাদের মুন্সিগঞ্জের বাসায় বেড়াতে যান। তাদের নিয়ে আজ সকালে লঞ্চের একটি কেবিনে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। কিন্তু লঞ্চ পাড়ে ভেড়ার আগে মুহূর্তে লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।