নিঃসন্দেহে ভারতীয় নারীরা দুনিয়ার সবচেয়ে কুৎসিত নারী: কিসিঞ্জারকে রিচার্ড নিক্সন

প্রকাশিত: ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০ | আপডেট: ১:২৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

হিন্দুস্থান টাইমস অবলম্বনে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন। শুধুমাত্র ওয়াটারগেট কেলেংকারিতে জড়িত থাকার অপবাদই নয়, বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবেরও বদনাম আছে তার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বন্ধু পাকিস্তানের শোচনীয় হার মেনে নিতে পারেননি সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রপতি। তখন থেকেই ভারত সরকারের প্রতি, বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি বিদ্বেষ তার। আর এই বিদ্বেষ থেকেই ভারতীয় নারীদের কুৎসিত বলে মন্তব্য করেন রিচার্ড নিক্সন।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু অডিও রেকর্ড থেকে এমন প্রমাণই পাওয়া গেছে।

৫০ বছর আগের রেকর্ডে পাওয়া নিক্সনের এই মন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলো নিক্সনের এই বিবৃতিটিকে “হতবাক করে দেওয়ার মতো” তবে নিক্সনের “গোঁড়া দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছেন।

অডিও রেকর্ডে শোনা যাচ্ছে ১৯৭১ সালের জুনে নিক্সন তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারকে বলছেন, ‘বিশ্বের নারীদের মধ্যে সবচাইতে কুৎসিত ভারতীয় নারীরা’, এই কথার ওপর জোর দেওয়ার জন্য শুরুতে ‘নিঃসন্দেহে’ শব্দটিও যোগ করেন তিনি। 

অডিও রেকর্ডে শোনা যাচ্ছে ১৯৭১ সালের জুনে নিক্সন তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারকে বলছেন, ‘বিশ্বের নারীদের মধ্যে সবচাইতে কুৎসিত ভারতীয় নারীরা’, এই কথার ওপর জোর দেওয়ার জন্য শুরুতে ‘নিঃসন্দেহে’ শব্দটিও যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘এরা সবচাইতে নির্বোধ, এদের ভেতরে কিচ্ছু নেই। কেউ কেউ আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। তবে আমি বলব এই কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে কিছুটা পশুসুলভ সৌন্দর্য আছে, কিন্তু ভারতীয় নারীরা- একেবারে জঘন্য। উফ!’

রেকর্ডে শোনা যায় নিক্সন কিসিঞ্জারকে বলছেন, ‘এরা (ভারতীয় নারীরা) আমার মধ্যে কোন যৌন উত্তেজনাই জাগাতে পারে না। কি করে এরা অন্য পুরুষের মাঝে উত্তেজনা জাগায়, আমাকে বলতে পার হেনরি?’

হোয়াইট হাউজের এই অপ্রকাশিত রেকর্ডগুলো উদ্ধার করেন গ্যারি বাস, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে লিখেছিলেন বিখ্যাত বই ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম’। রেকর্ডে পাওয়া নিক্সনের এইসমস্ত মন্তব্য গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান গ্যারি।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সরকার ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। তারা বঙ্গোপসাগরের কাছে সপ্তম নৌবহরও পাঠিয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পাশে এগিয়ে আসে ভারত ও রাশিয়া। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের পরাজয় মেনে নিতে পারেননি নিক্সন। এর আগেও ইন্দিরা গান্ধী ও ভারতীয়দের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। ২০০৫ সালে পাওয়া কিছু পুরানো রেকর্ডেও ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার করতে শোনা গেছে তাকে। সেখানে ভারতীয়দের তিনি ‘কুটিল’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সম্প্রতি পাওয়া এই অডিও রেকর্ডগুলোতেও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী শব্দ ব্যবহার করেছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, ‘এদের দেখলে আমার ঘেন্না হয়। আর ওদের সঙ্গে কঠিন হওয়া এত সহজ!’

তবে এই ধরণের অবমাননাকর মন্তব্য করা নিক্সনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে ‘ইন্ডিয়াস্পোরা’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সঞ্জীব যোশীপুরা নিক্সনের এই মন্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভারতীয় এবং অন্যান্য জাতির নাগরিকদের প্রতি একজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টার এধরণের মানসিকতা আমাকে হতবাক করে দিয়েছে। নিক্সন আর কিসিঞ্জারের এরকম গোঁড়া মনোভাব সম্পর্কে যদিও আমরা সবাই জানি, তবু এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত অবমাননাকর। আর পররাষ্ট্রনীতি ও গ্লোবাল ডিপ্লোমেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কোন একটি জাতি সম্পর্কে নিজের ব্যক্তিগত ধারণার উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করাটা নিতান্তই অপেশাদার ও অদক্ষতার পরিচায়ক।’

“তবে ভাগ্যিস, বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আর নিক্সন সরকারের সময়ে দু’দেশের সম্পর্কের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাৎ”, বলেও মন্তব্য করেন সঞ্জীব।