মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত বেড়ে ১৮, স্থানীয়দের অভিযোগ তিতাসের দিকে, অভিযোগ পাননি ইউএনও

প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০ | আপডেট: ২:০৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।তার নাম – মো. বাহাউদ্দীন (৫৫)।

মো. বাহাউদ্দীনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিস্ফোরণের ঘটনায় এ নিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হলো। নিহতদের মধ্যে বায়তুস সালাত জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া দগ্ধ আরও ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মৃত ১৮ জন হলেন- রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুবায়ের (১৮), সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপরী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), মোয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০), জুবায়ের (৭), জুয়েল, রাসেল (৩৪), নয়ন (২৭), রাশেদ (৩০), কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), মাইনউদ্দিন (১২) ও বাহারউদ্দিন (৫০)।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন।বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে। জানালার কাচ উড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

‘টাকা না দেয়ায় লিকেজ মেরামত করেনি তিতাস’

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় মসজিদে গ্যাসের লিকেজ মেরামত করে দেয়নি বলে তিতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, ৯ মাস আগেই গ্যাসলাইনের লিকেজ মেরামতের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তারা। তখন এ কাজের জন্য মোটা অংকের টাকা চেয়েছিল তিতাসের কর্মকর্তারা। এ টাকা না দেয়ায় লিকেজ মেরামত করে দেয়নি তিতাস।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মেম্বার বলেন, নামাজ পড়তে এলে মুসল্লিরা গ্যাসের গন্ধ পেতেন। এরপর গ্যাসলাইন লিকেজ হওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা মেরামত করার জন্য তিতাসকে জানিয়েছিলাম। তখন তারা যে অর্থ দাবি করে তা জোগাড় করতে পারিনি আমরা। টাকা না দেয়ায় তিতাস আর কাজ করে দেয়নি।

মসজিদ কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন  বলেন, পাইপ মেরামত করতে কমিটির পক্ষ থেকে আমরা তিতাস কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু তারা টাকা দাবি করলে এ বিষয়ে আর গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

একই অভিযোগ অনেক মুসল্লির। পিয়াস মিয়া নামে স্থানীয় এক মুসল্লি যুগান্তরকে বলেন, আমরা উনাদের (তিতাস) একাধিক বার বলেছি। তারপরও উনারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের এমন অভিযোগের জানতে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুকবুল আহম্মদকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে গ্যাসের লাইনের লিকেজের কারণেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেঠে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

তিতাসের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ পাইনি: ইউএনও

তিতাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা শোনেননি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক।

এ প্রসঙ্গে তিনি  বলেন, কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ লিখিত আকারে এখনও উপজেলা প্রশাসন পায়নি। যদি এমন অভিযোগ আসে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা জানেন ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। এছাড়াও সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত, নিহতদের সমবেদনা এবং বিস্ফোরণে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

নাহিদা বারিক বলেন, নিহতদের মধ্যে ১৬ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। যারা নারায়ণগঞ্জের তাদের লাশ স্থানান্তর এবং দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা দূরের তাদেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।