সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্তের নামে একটি স্থাপনার নাম করনের দাবী সর্বস্থরের হবিগঞ্জবাসীর

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০ | আপডেট: ১২:০২:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডনঃ জাতির শ্রেষ্ট সন্তান মুক্তিযুদ্ধের চার নাম্বার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার চিত্ত রঞ্জন দত্তের (সি আর দত্ত) স্মৃতিকে ধরে রাখতে তার নিজ জেলা হবিগঞ্জে একটি স্থাপনার নাম করনের দাবী জানিয়েছেন সর্বস্থরের হবিগঞ্জবাসী। গেল ৩রা সেপ্টেম্বর লন্ডনে হবিগঞ্জ ইয়োথ এ্যাসোসিয়েশন ইউকে আয়োজিত তার স্মরণ সভায় বক্তারা এ দাবী জানান।

বক্তারা বলেন বাবু সি আর দত্ত শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেনা ছিলেন একজন নিখাদ দেশ প্রেমিক। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এই মানুষটি আমৃত্যু দেশের সেবা করে গছেন। মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময় চার নাম্বার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সম্মুখ সমরে অংশ নেন। স্বাধীনতা পরবর্তিতে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষি বাহিনী (বি-ডি-আর) বর্তমানে বিএসএফ এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্টাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত মূহুর্ত যখন উপস্থিত সে সময় ছুটিতে দেশেই ছিলেন সি আর দত্ত। তখন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের মেজর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্দীপ্ত সি আর দত্ত মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তাকে দেয়া হয় ৪নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য দেশ স্বাধীনের পর তাকে ‘বীর উত্তম‘ খেতাবে ভুষিত করা হয়। গেল ২৫ আগষ্ট মর্কিন যুক্তরাষ্টের ফ্লোরিডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১লা সেপ্টম্বর তার মরদেহ দেশে নিয়ে আসলে জাতির এই শ্রেষ্ট সন্তানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় ঢাকায়। প্রয়াত সি আর দত্তের জন্ম ১৯২৭ সালের ১লা জানুয়ারী আসামের রাজধানী শিলংয়ে। তার পিতা বাবু প্রয়াত উপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ছিলেন সেখানকার পুলিশ কর্মকর্তা। তার পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাসী গ্রামে। তিনি ১৯৫১ সালে পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। গেল ৩রা সেপ্টেম্বর বিকেলে ইষ্টলন্ডনেরর একটি কমিউনিটি সেন্টারে হবিগঞ্জ ইয়োথ এ্যাসোসিয়েশন ইউকে আয়োজিত শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী নিয়াজ মাহমুদ লিংকন, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গির আলমের পরিচালনায় জাতির এই শ্রেষ্ট সন্তানের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, শামসুল ইসলাম মঞ্জু, গিয়াস উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আলাল মহশিন, মাহমুদুর রহমান রিয়াজ, কাজী তাজ উদ্দিন আকমল, সজিব খান, শাহ জিয়া, প্রমুখ। শোক সভায় ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী হবিগঞ্জবাসী যোগ দেন।