অস্ট্রিয়ায় চালু হল করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

অস্ট্রিয়া, জিনহুয়া নেট।  অস্ট্রিয়াতে করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল।

শুক্রবার থেকে এ করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা চালু করেছে অস্ট্রিয়ার সরকার। এ ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন শহর এবং জেলার করোনাভাইরাসের ঝুঁকির বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। এই ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা মোট চারটি রঙ রাখা হয়েছে যথাক্রমে- সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল।

এ চারটি রংবিশিষ্ট ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন শহরের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, জনসাধারণের ওপর কেমন নীতিমালা গৃহীত হবে এবং কীভাবে মোকাবেলা করা হবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।

প্রতি সপ্তাহে এই ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা হালনাগাদ করা হবে। সবুজ ট্রাফিক লাইট সম্বলিত অঞ্চল করোনাভাইরাস সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হবে; তবে এ অঞ্চলের আওতাভুক্ত জনগণকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

ইনডোরে বড় অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার অতিথি অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। খোলা মাঠে বড় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দশ হাজার দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে। হলুদ ট্রাফিক অঞ্চল মাঝারি ঝুকিপূর্ণ। এ অঞ্চলে শপিং মল সুপার শপে মাস্ক পরিধান এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করে প্রবেশ করতে হবে।

এদিকে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছুটা নিয়মনীতি এবং জনসমাগম সীমিত করা হবে। হলরুমে দুই হাজার পাঁচশ’জনের অধিক বক্তি অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং খোলা মাঠে একসঙ্গে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

কমলা রং সংবলিত অঞ্চল করোনাভাইরাসে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এ অঞ্চলে সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হলরুমে সর্বোচ্চ ২৫০ জন এবং খোলা মাঠে ৫০০ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। হাসপাতাল এবং প্রবীণ নিবাসে বহিরাগতদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা গ্রহণ করা হবে। বহিরাগত রোগীদের ক্ষেত্রে টেলিফোনে চিকিৎসা প্রদান করা হবে। সর্বশেষ লাল রংবেষ্টিত অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অঞ্চলে বিয়ে এবং শেষকৃত্য অনুষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দোকান ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। তবে ডেলিভারি সেবা চালু থাকবে। হাসপাতাল এবং প্রবীণ নিবাসে দর্শনার্থীদের আগমন নিষিদ্ধ করা হবে। সেই সঙ্গে সব ফিটনেস সেন্টার বন্ধ রাখা হবে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়াতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শুক্রবারে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম। তবে অস্ট্রিয়ার সরকার করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; এর মধ্যে এই করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা অন্যতম।