ঢাকা ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

লাদাখে পাল্টাপাল্টি গুলির অভিযোগ, ভারত বলছে পরিস্থিতি খুবই গুরুতর

LTN
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০
লাদাখে পাল্টাপাল্টি গুলির অভিযোগ, ভারত বলছে পরিস্থিতি খুবই গুরুতর

লন্ডন টাইমস নিউজ।বিরোধপূর্ণ লাদাখ সীমান্তে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের অভিযোগ করেছে পারমাণবিক অস্ত্রধারী চিরবৈরী দুই প্রতিবেশি চীন এবং ভারত। সোমবারের এই গোলাগুলির ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। সীমান্তে চীন-ভারতের সামরিক এই উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গভীর আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্তের এই অবস্থা চীন-ভারতের পুরো সম্পর্ক থেকে আলাদা থাকতে পারে না। যদি সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না আসে তাহলে একই ভিতের ওপর অন্যান্য সম্পর্ক অব্যাহত থাকতে পারে না।

জয়শঙ্কর এমন এক সময় এই মন্তব্য করলেন যখন চীন অভিযোগ করে বলেছে যে, লাদাখের প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণ তীরে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অতিক্রম করে টহলরত চীনা সৈন্যদের সতর্ক করতে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে ভারতীয় সৈন্যরা।

তবে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সীমান্ত সমঝোতা লঙ্ঘনের যে অভিযোগ চীন এনেছে তা ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ডি-ফ্যাক্টো সীমান্তে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের সময় চীনা সৈন্যরাই গুলিবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামরিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্তরে যখন আলোচনা চলছে, তখন চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি পরিষ্কারভাবে চুক্তি লঙ্ঘন এবং আক্রমণাত্মক কৌশল পরিচালনা করছে।

জয়শঙ্কর বলছেন, চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভিত্তি হলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা। গত ৩০ বছরের দিকে তাকালে দেখা যায় সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ছিল– সেখানে সমস্যাও ছিল। আমি এটাকে অগ্রাহ্য করছি না; যা সম্পর্কের বাকি অংশগুলোকে চালিত করে।

তিনি বলেন, ফলে চীন (ভারতের) দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে উঠেছে… স্পষ্টতই সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।

মঙ্গলবার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত দাবি করেছে যে, তারা চীনের সামরিক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে ‘আগাম সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভারতের এমন বিবৃতি এই সত্য প্রকাশ করে যে, ভারতীয় সেনারাই সর্বপ্রথম অবৈধভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম, সীমান্ত অঞ্চলে স্থিতিশীল অবস্থার পরিবর্তন এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা ভারতীয় পক্ষকে তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কঠোরভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ, সব উস্কানি বন্ধ, অবিলম্বে অবৈধভাবে এলএসিতে অনুপ্রবেশকারী সব সেনা প্রত্যাহার এবং উত্তেজনা বাড়াতে বা সীমান্ত পরিস্থিতি জটিল করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করার আহ্বান জানাই।’