কুয়েতে গত দুই মাসেও ২৭ কোটি টাকার কাজ পান পাপুল

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৫:অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা।কুয়েতে আটক বাংলাদেশের সাংসদ শহিদ ইসলামকে (পাপুল) মদদ দেওয়ার পেছনে সেখানকার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন দেশটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা গত দুই মাসে তাঁকে ২৭ কোটি টাকার চারটি কাজের চুক্তি নবায়নে সহায়তা করেছিলেন। ওই চুক্তিগুলোর আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার জন্য কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল।

তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আরবী দৈনিক আল কাবাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সাংসদের অনৈতিক কাজে মদদ দেওয়ার পেছনে কুয়েতের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মদদের বিষয়টি বের হয়ে আসছে। গতকাল রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহিদ ইসলামের চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজের চুক্তি নবায়নের মধ্য দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কেলেংকারিতে যুক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যে চারটি কাজের চুক্তি নবায়ন হয়েছে সেগুলোর আর্থিক পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ৫৮ টাকা বা কুয়েতের ১০ লাখ দিনার।

কুয়েতের তদন্ত সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তির মধ্যে দুটির মেয়াদ কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছিল। অন্য দুটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল দুই মাস আগে। কিন্তু কুয়েতের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যেহেতু পরিচ্ছন্নতা সেবা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে সরকারী কাজের চুক্তিতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ব্যতয় ঘটিয়ে সেগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

এদিকে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি। এ মাসের শুরুতে সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানটি সরকারী দরপত্র বিষয়ক কর্তৃপক্ষের কাছে শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠানের কাজের মেয়াদ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। কিন্তু সরকারি দরপত্র কর্তৃপক্ষ ওই সুপারিশের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন স্থগিত করে দেয়। অন্যদিকে ধর্মীয় কর্মকান্ড বিষয়ক কাজে যুক্ত সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি কাজের বরাদ্দ দিয়েছে। কাজের মূল চুক্তিপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সাংসদের প্রতিষ্ঠানের একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে চুক্তিতে পরিবর্তন আরো একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠানকে। সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী বাড়তি কাজের জন্য দেওয়া হবে ১৯ কোটি ৮৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বা সাত লাখ ২০ হাজার দিনার। ওই কাজের চুক্তি এ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশের অভিযুক্ত সাংসদের সঙ্গে কুয়েতের রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যেসব আর্থিক লেনদেন হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছেন দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে কুয়েতের পাঁচ সাংসদ তাঁকে মদদ দিয়েছেন এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন। এদের মধ্যে বর্তমান দুই সাংসদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।

শহিদ ইসলামকে মদদ দেওয়ায় অভিযুক্ত তিন সাংসদের প্রাধিকার প্রত্যাহার করে নিতে এরই মধ্যে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের দপ্তর থেকে পার্লামেন্টের স্পিকার মারজুক আল ঘানেমকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুয়েতের পার্লামেন্টের স্পিকার বিষয়টি আইন বিষয়ক সংসদীয় কমিটির আলোচনায় তুলেছেন। তিন সাংসদের প্রাধিকার প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পার্লামেন্টের আইন বিষয়ক কমিটি।

কুয়েতের সংবিধান বিশেষজ্ঞ মোহামেদ আল ফিলি আল কাবাসকে বলেছেন, আইন বিষয়ক কমিটি পাবলিক প্রসিকিউশনের দপ্তরের অনুরোধের বিষয়ে এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দেবেন। যদি কমিটি এক মাসে মধ্যে প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয় তখন ধরে নেওয়া হবে উল্লেখিত দুই সাংসদের প্রাধিকার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের আইনের আওতায় আনতে আর কোন বাধা থাকবে না।