অভিভাবকহীন ৪০০ শরণার্থী শিশুকে ঠাঁই দিচ্ছে ইউরোপের ১০ দেশ

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ | আপডেট: ১২:০৩:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

ইউরোপ ডেস্ক।ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে গ্রিসের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির ছেড়ে পালিয়ে আসা অভিভাবকহীন ৪০০ শিশুকে নিতে রাজি হয়েছে ইউরোপের দশটি দেশ। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্স্ট সিহোফার এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এই শিশুদের অধিকাংশই যাবে জার্মানি এবং ফ্রান্সে।

গ্রিসের লেসবস দ্বীপের জীর্নশীর্ণ মরিয়া শরণার্থী শিবিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৩ হাজার মানুষ বসবাস করেন। গত বুধবার এই দ্বীপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শরণার্থী পরিবারগুলো রাস্তায় এবং মাঠে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে। এই শরণার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে কঠিন বেগ পোহাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।মরিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে দাতব্য সংস্থাগুলোকে ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছেন। ওই এলাকায় নতুন করে তাঁবু স্থাপনের বিরোধিতা করছেন তারা।

লেসবস দ্বীপের এই শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পর ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মার্গারিটিস শিনাস একই স্থানে একটি আধুনিক স্থাপনা তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন।

ওই আশ্রয় শিবিরের এক বাসিন্দার করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর পুরো শিবির কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। গ্রিসের এই আশ্রয় শিবিরে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গ্রিসের স্থানীয় সংবাদ সংস্থা এএনএ বলছে, করোনায় আক্রান্ত ৩৫ জনের মধ্যে কয়েকজন আশ্রয় শিবির থেকে আইসোলেশন সেন্টারে যেতে রাজি না হওয়ার পরপরই সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়।

শিবিরটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে একটি সমাধান খুঁজে বের করার জন্য লেসবসে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে গ্রিসের সরকার। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে নতুন শরণার্থী শিবির স্থাপনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন।লেসবস দ্বীপের পৌর নেতা ভানগেলিস ভায়োল্যাটজিস ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, মরিয়া শিবির চিরতরে বন্ধ করে দেয়ার এখনই সময়।

 

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ইতালি এবং গ্রিসে অভিবাসীদের ব্যাপক আগমন মোকাবিলা করা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই সঙ্কট সমাধানে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের ধনী দেশগুলো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রিস এবং ইতালি।

যদিও ইউরোপের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসীদের কোটাভিত্তিক গ্রহণের ধারণার ঘোরতর বিরোধী।