৯/১১ এর পর মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ৪ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ | আপডেট: ১২:০৪:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নৃশংসতম টুইন টাওয়ার হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যে কথিত বৈশ্বিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তাতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় গত মঙ্গলবার ‘যুদ্ধের মূল্য’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। যারা ওই গবেষণা নিবন্ধটির লেখক, তারা বলছেন, কম করে ধরে আনুমানিক এই হিসাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কথিত এই সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রকৃত সংখ্যাটা হবে ৪ কোটি ৮০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৯০ লাখ।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, টুইন টাওয়ার হামলার পর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাস্তুভিটা থেকে উৎখাত হওয়া মানুষের আসল সংখ্যা হতে পারে প্রায় ছয় কোটি। কারণ, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, সেগুলোর হিসাব এখানে যুক্ত হয়নি।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরাক। এর ফলে দেশটির ৯২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া এই যুদ্ধের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও লিবিয়ার লাখ লাখ মানুষ।উনিশ শতকের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধে আর কোনো বৈশ্বিক যুদ্ধ কিংবা সংঘাতে এত মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়নি। ২০০১ সালের ৯/১১ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। আহত ছয় হাজারের বেশি। হামলার পর এর বদলা নিতেই ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

গবেষকরা বলছেন, ‘বাস্তুচ্যুতি ও অন্যান্য দুর্ভোগ ৯/ ১১ পরবর্তী যুদ্ধের যে কোনও বিশ্লেষণ এবং যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য দেশের সামরিক শক্তির ভবিষ্যতের ব্যবহারের যে কোনও অনুমেয় ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। প্রায় দুই দশক ধরে চলমান এই যুদ্ধের বৈধতা এবং বিপর্যয়কর ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত।’

ভক্স নিউজের দেয়া এক হিসাবে দেখা গেছে, জর্জ বুশ প্রশাসনের কথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী ওই যুদ্ধে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল দেশটি। সেই ব্যয় থেমে নেই কেননা এখনো সেই ‘যুদ্ধ’ চলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।