বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা, র‍্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ৮

প্রকাশিত: ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | আপডেট: ১:০৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

ঢাকারাজধানীর বনানীতে অফিস খুলে ভালো বেতনের চাকরিতে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। এমন অভিযোগে অভিযান চালিয়ে চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে মধ্যরাক পর্যন্ত রাজধানী বনানীর ৪ নম্বর রোডের ড্রিম ভিসা কনসালট্যান্সি নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু  এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতার আট জন হলেন— ড্রিম ভিসা কনসালট্যান্সির মালিক তোফাজ্জল হোসেন, জুঁই আক্তার, সানজিদা, সাদিয়া, নাইমা জুম, স্বপ্না আক্তার এবং ফাতেমা ওভারসিজ নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের মালিক কবির হোসেন ও সহযোগী সোহাগ। এসময় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান দু’টি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু  বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিদেশে লোক পাঠানোর কোনো লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কিন্তু তারপরও তারা তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডা ও ফিজিতে পাঠানোর কথা বলে বিজ্ঞাপন দিত। এরপর তাদের অফিসের ঠিকানায় যারা আসত, তাদের বসিয়ে কাউন্সিলিং করত। এরপর তাদের পাসপোর্ট ও বিদেশ পাঠানোর নাম করে টাকা হাতিয়ে নিত। নির্দিষ্টসংখ্যক গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে নির্দিষ্ট সময় পরপর অফিস বদল করত তারা। এতে ভুক্তভোগীরা তাদের আর খুঁজেও পেত না।

পলাশ কুমার বলেন, ওই অফিসে অভিযানের সময় ৩২টি পাসপোর্ট, ভুয়া চুক্তিপত্র, ফিজিতে পাঠানোর ভুয়া ডিমান্ড লেটার জব্দ করা হয়। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তোফাজ্জলকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকিদের প্রত্যেককে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে প্রত্যেকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

র‌্যাবের এই ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অভিযানে গিয়ে জানতে পারি— এক তরুণীকে দুবাইয়ের একটি অভিজাত হাসপাতালে আয়ার চাকরি দেওয়ার কথা বলে সৌদিতে পাঠায় ফাতেমা ওভারসিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর ওই তরুণীকে সৌদি আরবের একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই তার ওপর অকথ্য নির্যাতন নেমে আসে। শুধু তাই নয়, কয়েক মাস কাজ করলেও তাকে কোনো বেতন ও টাকা-পয়সা দেওয়া হয়নি। ওই তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বনানীর ১০ নম্বর রোডে থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়েছি আমরা।

প্রতারক মানব পাচার চক্রের আটক সদস্যের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।