চীনা প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করা কোটিপতি রেন ঝিয়ার ১৮ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ১:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | আপডেট: ১:৩৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ।করোনা মোকাবিলা ঘিরে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সমালোচনা করা এক কোটিপতিকে দুর্নীতির অভিযোগে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। আজ মঙ্গলবার তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, চীনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী রেন ঝিকিয়াং গত মার্চ মাসে গুম হন। ওই সময় তিনি করোনা মোকাবিলায় চীনা প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে। রেন ঝিকিয়াং স্পষ্টবাদী সরকার সমালোচক।

আজ বেইজিংয়ের একটি আদালত একাধিক অভিযোগে রেনকে দোষীসাব্যস্ত করেন। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার সরকারি তহবিল তছরুপ, উৎকোচ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে।

আদালত তাঁকে ১৮ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করেছেন। আদালত বলেছেন, রেন ঝিকিয়াং স্বেচ্ছায় সব দোষ স্বীকার করেছেন এবং অবৈধ সম্পদের রেকর্ড উদ্ধারের পর আদালতের রায় মেনে নিতে ইচ্ছুক।

আইনি পর্যবেক্ষকেরা বলেন, চীনের আদালত পদ্ধতিতে সাজা দেওয়ার হার ৯৯ শতাংশ। কেউ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গেলেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

রেনের কঠোর সাজার বিষয়টি চীনের অভিজাতদের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য সমালোচনা বা অবমাননার বিরুদ্ধে একটি বার্তা। চীন ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও অন্যান্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপে রয়েছে।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির অভিজাত হলেও ৬৯ বছর বয়সী রেন চীনা রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত। চীনের মতো কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে যা সাধারণত অনুমতি পায় না। তাঁর সমালোচনার জন্য চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘কামান’ বা ‘দ্য ক্যানন’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

গত মার্চে প্রকাশিত নিবন্ধে রেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। প্রবন্ধে কোথাও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে চীনের শীর্ষ নেতাকে ক্ষমতালোভী ‘ভাঁড়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টিকে চীনা জনগণের স্বার্থ না দেখে নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

ওই প্রবন্ধ প্রকাশ হওয়ার পরই রেন গুম হয়ে যান। তাঁর আত্মীয়রা ধারণা করেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষ পরে এপ্রিল মাসের দিকে তাঁর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের কথা জানায়।