সুইজারল্যান্ডের উদ্যোগ-ইইউ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের চলাচল সীমিত করতে গণভোট

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | আপডেট: ৭:১৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

লন্ডন টাইমস নিউজ, ইউরোপ ডেস্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো থেকে যাওয়া অভিবাসীদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুইজারল্যান্ডে। রোববার এই ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রস্তাব পাস হবে না।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফ রোববার সন্ধ্যায় জানায়, গণভোটে হেরে যাবে এই প্রস্তাব। তবে প্রস্তাবটি পাস হলে তা ইইউ-সুইজারল্যান্ডের বিদ্যমান সম্পর্কে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

ইইউর সদস্য দেশ নয় সুইজারল্যান্ড। কিন্তু এই দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিদ্যমান চুক্তি অনুসারে দেশটিতে ইইউর দেশগুলোর এবং সুইজারল্যান্ডের নাগরিকেরা মুক্তভাবে চলাচল করতে পারেন এবং বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কাজ করতে পারেন। সেই সুযোগ সীমিত করার জন্যই দেশটির ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) নতুন এই প্রস্তাব এনেছে। যদিও দলটির এই প্রস্তাব জনগণের ততটা সমর্থন পায়নি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ডানপন্থীদের এই প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রীরা। দেশটির বিচারবিষয়ক মন্ত্রী কারিন ক্যালার স্যুটার বলেন, এই উদ্যোগ ব্রেক্সিটের (ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) চেয়েও বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। প্রস্তাবের বিরোধীরা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের শক্তিশালী অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে এই প্রস্তাব পাস হলে। এ ছাড়া এতে ইইউর বিভিন্ন দেশে কর্মরত সুইজারল্যান্ডের হাজারো নাগরিক বিপাকে পড়বেন।

ইইউর দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য এবং শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত খোলা রাখার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় নাগরিকদের এই অবাধ চলাচল। এসভিপির ওই প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই কথা বলে আসছে ইইউ। সংস্থাটি বলেছে, নাগরিকদের অবাধ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে বাণিজ্য চুক্তির ওপরও তার প্রভাব পড়বে।

এসভিপির এমন উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো ২০১৪ সালের গণভোটে তাদের সাফল্য। সুইজারল্যান্ডে চাকরির বাজারে দেশটির স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রাধান্য দিতে একটি গণভোট হয়েছিল ওই বছর। ওই ভোটে জিতেছিল দলটির প্রস্তাব। ওই গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে পরে আইনও পাস হয়। কিন্তু আইনটিকে যথেষ্ট দুর্বল মনে করছে এসভিপি। ফলে এবার অভিবাসীদের বিদায় করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে সুইজারল্যান্ডের নাগরিক নয় এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশই দেশটির নাগরিক নয়। এই পরিস্থিতিতে এসভিপি নতুন প্রচারণা শুরু করেছে। দলটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অভিবাসীরা আমাদের সংস্কৃতি বদলে দিচ্ছেন। জনসমাগমস্থল, ট্রেন ও সড়ক আগের তুলনায় অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। বাস্তবিক অর্থে রাষ্ট্রের অর্ধেক সুবিধাই নিচ্ছেন অভিবাসীরা।’

দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের প্রবীণ নাগরিকদের জায়গায় অভিবাসী যুবকেরা নিয়োগ পেলে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়বে। বাড়িভাড়াসহ গৃহস্থালির ব্যয় বাড়বে, স্কুল ও পরিবহনে ভিড় বাড়বে।

ব্রেক্সিটে প্রভাব
কিন্তু এসভিপির এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ইইউর নেতারা এবং দেশটির সরকারও বলছে, এর মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ভোটের সঙ্গে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট-পরবর্তী চুক্তির সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে পরোক্ষ একটি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ সুইজারল্যান্ডে যদি ইইউর নাগরিকদের অবাধ চলাচল অব্যাহত থাকে, তবে এতে ইইউর অবস্থান শক্তিশালী হবে। এ ছাড়া ব্রেক্সিট-পরবর্তী চুক্তিতে যুক্তরাজ্যকেও এমন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে বার্তা দেবে এই ভোট।