প্রত্যাহার চুক্তির(ব্রেক্সিট) বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় কমিশনের আনুষ্ঠানিক চিঠি

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০ | আপডেট: ৭:১২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০

এলটিএন, ইউরোপ এবং ব্রিটেন।ইউরোপীয় কমিশন প্রত্যাহার (ব্রেক্সিট উইথড্রল এগ্রিমেন্ট) চুক্তির অধীনে দায়বদ্ধতা লঙ্ঘনের দায় আজ যুক্তরাজ্যকে আনুষ্ঠানিক নোটিশের একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক লঙ্ঘন প্রক্রিয়ার সূচনা নিশ্চিত করে। এক মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে চিঠির জবাব দিতে হবে।

প্রত্যাহার চুক্তির (ব্রেক্সিট উইথড্রল এগ্রিমেন্ট) ৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে প্রত্যাহার চুক্তি থেকে সৃষ্ট বাধ্যবাধকতা পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সেই উদ্দেশ্যগুলি অর্জনে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনও পদক্ষেপ থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে। উভয় পক্ষই প্রত্যাহার চুক্তি (ব্রেক্সিট উইথড্রল এগ্রিমেন্ট) থেকে উদ্ভূত কাজগুলি সম্পাদনে সৎ বিশ্বাসে সহযোগিতা করার বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ।

২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাজ্য সরকার তাদের সংসদে একটি বিল (‘যুক্তরাজ্য অভ্যন্তরীণ বাজার বিল’) উপস্থাপন করে, যা গৃহীত হলে, আয়ারল্যান্ড / উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রোটোকলকে প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করবে, কারণ এটি প্রত্যাহার চুক্তির (ব্রেক্সিট উইথড্রল এগ্রিমেন্ট) অধীনে প্রোটোকলের মূল ধারাগুলিকে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের আইনী প্রভাবকে উপেক্ষা করার অনুমতি দেবে ।

যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা এই লঙ্ঘনকে স্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যের সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুরোধ সত্ত্বেও বিলের বিতর্কিত অংশগুলি প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রত্যাহার চুক্তির অধীনে বর্তমান ট্রানজেশন প্রিয়ড দু’পক্ষ যাতে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করতে পারে সে বিষয়ে এবং সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি যুক্ত রয়েছে, মতানৈক্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় যেমন মৎস্য শিকার জোন এবং আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড এর সাথে সীমান্ত সংক্রান্ত কার্যক্রম, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য সরকার কোন পক্ষই একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ ফলে তা কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত পৌঁছায়নি।

পহেলা অক্টোবর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়েন বলেছেন আমরা আমাদের ব্রিটিশ বন্ধুদের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তাদের খচরা অভ্যন্তরীণ বাজারের সমস্যাযুক্ত অংশটুকু বাদ দিতে বলেছি কিন্তু তারা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সরিয়ে নেননি।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেছেন প্রত্যাহার চুক্তির পূর্ণ সময়োপযোগী বাস্তবায়নের জন্য কমিশন কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাবে, কারণ আমরা আমাদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় সাধারণ সভায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেফকভিস আবারো যুক্তরাজ্যকে উক্ত বিল থেকে বিতর্কিত পদক্ষেপ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান তবে যুক্তরাজ্য খসড়া আইনটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিশ্চিত করেছে

যুক্তরাজ্য সরকারকে এ মাসের শেষ অবধি উক্ত আনুষ্ঠানিক নোটশের তাদের মতামত জানাতে হবে এবং উক্ত মতামত প্রদান আলোচনার পরে অথবা যদি যুক্তরাজ্য নির্দিষ্ট সময়ে জবাব না দেয় তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ হিসেবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবে।